কেন এই হীনমন্যতা?

গ্লোবের ভ্যাকসিন প্রজেক্টের সাথে জড়িত তিন প্রধান কর্মকর্তা

Covid 19 বা করোনাভাইরাস রোগের টিকা (ভ্যাকসিন) উদ্ভাবনের দাবি করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস অব কোম্পানিজ লিমিটেড’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। প্রাণী দেহে সফল প্রয়োগের পর মানব দেহে প্রয়োগ হবে এই ভ্যাকসিন এবং আশা করা হচ্ছে পরবর্তী ধাপগুলো যদি ঠিকমতো সম্পন্ন করা যায় তাহলে ডিসেম্বর এর মধ্যে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বাংলাদেশেই এই ভ্যাকসিন এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার একটি কার্যকরী সমাধান পাওয়া যাবে। এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তেমনটি জানিয়েছেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান আসিফ মাহমুদ।

আসিফ মাহমুদ এর সংবাদ সম্মেলনের সংবাদটি যেভাবে মিডিয়াতে আলোড়ন তোলার কথা ছিলো সেভাবে কি তুলেছে ? দু একটি টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্র ছাড়া অধিকাংশ প্রথম সারির টিভি মিডিয়া এবং সংবাদপত্রগুলো ব্যাপারটিতে একদম মৌনতা অবলম্বন করছে। কেন করছে সেটা কি আমরা জানি ? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসিফ মাহমুদ এর পক্ষে একদল লিখছে , আবার তাঁর বিপক্ষে লেখার মতো মানুষও কিন্তু নেহায়েৎ কম নয় ! অথচ এমন একটি সংবাদ নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পরে যাবার কথা ছিলো সব মিডিয়াতেই!

যারা আসিফ মাহমুদ এর বিপক্ষে লিখছেন তাদের যুক্তি হলো এই ভ্যাকসিন এখনো মানব দেহে প্রয়োগ হয়ে সফল হয় নি, তাছাড়া আন্তর্জাতিক মান মেনে আরো অনেকগুলো ধাপ পারি দেবার পর কেবল তখনি আসিফ মাহমুদ এবং গ্লোবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা উচিত ছিলো।

যারা এসব যুক্তি দিচ্ছেন তাদেরকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে যদি প্রশ্ন করি : প্রাণী দেহে ভ্যাকসিনটি সফল হয়েছে, এটিও কি এক বিরাট সফলতা নয় কি ? তাছাড়া ভ্যাকসিনটি পরবর্তী ধাপগুলোতে সফল হবে না সেটা তারা কোন যুক্তিতে এখনই আগে থেকে বলে দিচ্ছেন ? তাদের এখনই এতো নিরাশাবাদী হবার পেছনে কি কি কারণ থাকতে পারে ?

এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুবই সিম্পল : আমরা বাংলাদেশিরা স্বভাবগতভাবে অন্যের ভালো দেখতে পারি না। গ্লোবের মতো তথাকথিত একটি ‘ছোট’ কোম্পানি এমন বিরাট কৃতিত্ব দেখিয়ে ফেললে সেটা তো আরো বড় বড় যেসব ঔষধ কোম্পানি বাংলাদেশের বাজারে রাজত্ব করে আসছে এত দীর্ঘদিন ধরে তাদের জন্য বেশ লজ্জাজনক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাবে ! তাছাড়া যেসব বড় বড় ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাজারে ব্যবসা করে আসছে , তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব মালিকানাধীন পত্র-পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল রয়েছে। তারা কখনোই তাদের পয়সা দিয়ে গড়ে ওঠা এসব মিডিয়াতে গ্লোবের এই আপাত দৃশ্যমান সফলতা কুণ্ঠাহীনভাবে প্রচার করবে না, সেটাই তো স্বাভাবিক !

বাংলাদেশের কর্পোরেট মালিকানাধীন এসব মিডিয়া হলো তাদের মালিকপক্ষের ঢালস্বরূপ ! তাদের মালিকদের পক্ষে বা তাদের মালিকদের ব্যবসায়িক সফলতার গুণগান করতেই এসব মিডিয়া সাধারণত কাজ করে থাকে। তাই যেসব সাংবাদিক পেটের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তাদের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই বলছি : জাতি হিসেবে আমরা যতদিন না ভালো কে ভালো বা খারাপ কে খারাপ বলতে শিখবো , ততদিন আমরা এভাবেই অধঃপতিত হতে থাকবো। ভুলে গেলে চলবে না যে আসিফদের হাত ধরেই নতুন দিনের সূচনা হতে পারে। তাই আসিফ মাহমুদ এবং তাঁর টিমকে উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন , কটাক্ষ করে নিরুৎসাহিত করা মানে হলো নিজেদের সফলতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়া এবং নিজেদের পায়ে নিজেদেরই কুড়াল মারা !

নাজমুস সাকিব
বার্তা প্রধাণ, নাগরিক টিভি

Sharing is caring!