গৃহযুদ্ধ কি অত্যাসন্ন?

রাকীব হাসান

একজন আরেকজনের বন্ধু, কিন্তু একজন কাদেরিয়া আরএকজন চিশতিয়া সুতরাং তারা একে অপরকে অপছন্দ করে! একজন নকশবন্দিয়া আরেকজন মোজাদ্দেদীয়া সুতরাং একজনের সঙ্গে আরেকজনের ওঠা বসা চলে না! একজন শর্ষিনা আরেকজন আটরশি, দুজন পরস্পর আত্মীয় হলেও তারা দুই ভিন্ন মেরুর, একে অপরের হাসির পাত্র! একজন শিয়া আরেকজন সুন্নি সুতরাং তারা একে অপরের শত্রু! একজন ভারতকে বন্ধু মনে করে, আরেকজন করেনা এই কারণে একজন আরেকজনের মাথা পারলে চিবিয়ে খায়! একজন নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে, আরেকজন বিপক্ষে এইজন্য সুযোগ পেলেই একজন আরেকজনের উপর সর্বদাই মারমুখী; একজন সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমালোচনামুখর আরেকজন সরকার প্রেমী সেই কারণে ৬০ বছরের বন্ধুত্ব ছিন্ন করে ফেসবুকে উভয়ে উভয়ের একাউন্টে ব্লক! একজন ইসলাম, একজন সনাতন, আরেকজন ধর্মনিরপেক্ষ; আত্মরক্ষায় প্রত্যেকের আস্তিনে ছুরি; সুযোগ সুবিধাগুলো হস্তগত করতে একে অপরের উপর এমনই খড়গ হস্ত যে একে অপরের ধ্বংস কামনা করে।

দেশটার চর্বচোষ্য ভোগ করে একদল লুটেরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে, আরেক দল অসহায় মানুষ ভাবছে তারা গরম কড়াই থেকে পড়েছে গিয়ে উনুনের দগদগে আগুনে! ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট খেলা? একপক্ষ সাপোর্ট করে পাকিস্তানকে, আরেকপক্ষ ভারতকে; এক পক্ষ আরেক পক্ষকে বলে ভারতের দালাল, এই পক্ষ ঐপক্ষকে বলে পাকিস্তানের দালাল, এক পক্ষ আরেক পক্ষের ধ্বংস কামনা করে। কেউ ফেসবুকে হায়দার হোসেনের “কি চেয়েছিলাম কি পেয়েছি, এত বছর পরেও স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি” – গান পোস্ট করল কি সঙ্গে সঙ্গে আরেক পক্ষের গালাগালির শিকার হয়ে গেল! কোনটা রাষ্ট্রবিরোধীতা, কোনটা সমাজ বিরোধিতা, কোনটা ধর্মবিরোধিতা, তা-ই যেন সকলে বিস্তৃত হয়েছে! মানুষ পরিচয়টাই এখানে সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত! দলীয় অন্ধত্বে উন্মত্ত সকলে! বন্ধুত্ব আত্মীয়তা মহানুভবতা কোন কিছুই আর কাজ করছে না! রাস্ট্র প্রশাসনের চর্চিত ফ্যাসিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে! মানুষ এখন ভয়াবহ রকম মারমুখী! কার মাথায় কে কখন বাড়ি দেবে, কার বসতভিটায় কে কখন আগুন লাগাবে সেই মহার্ঘ সুযোগের অপেক্ষায় সবাই বকের মতো খাপ মেরে আছে! হায়নার মত ইতিউতি শুঁকছে আর কুঁই কুঁই শব্দ করছে! জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের উপর ভঙ্গুর মাচায় বসে আছে সবাই, যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়বে! তাহলে? গৃহযুদ্ধ কি অত্যাসন্ন?

Sharing is caring!