২৫ জানুয়ারী নিয়ে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানের ফেইসবুক থেকে

সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মত পত্রিকায় চোখ রাখলাম। মনে করেছিলাম ২৫ জানুয়ারী নিয়ে দিবসটির স্মরণে কিছু একটা পাব। কিন্তু কোন পত্রিকাই এই দিবসটি স্মরণ করেনি। তারা স্মরণ করবেই বা কেন! চোখ রাখলাম ফেইসবুকে। অল্প কয়েকজন দিবসটি স্মরণ করেছেন দেখলাম। তাদেরকে ধন্যবাদ। কিন্তু জন্মদিন উপলক্ষে যেভাবে উচ্ছাস দেখা যায় সেই রকম কিছু দেখলাম না। জন্মদিনে উচ্ছাস থাকতেই পারে। এতে দোষের কিছু নয়। পাশাপাশি জাতির গুরুত্বপূর্ণ দিবস গুলো তো ওইভাবে স্মরণ করা দরকার। নতুবা ইতিহাস থেকে এ গুলো হারিয়ে যাবে। মিথ্যা ইতিহাস যেভাবে রচিত হচ্ছে এবং যা প্রচার হচ্ছে ওই গুলোই প্রতিষ্ঠা পাবে তরুণ প্রজন্মের কাছে। ২৫ জানুয়ারী স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে খবুই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনটিতে রাষ্ট্রের খোলস পাল্টে দেওয়া হয়েছিল জাতীয় সংসদে। তাও মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে ঘটানো হয়েছিল ইতিহাসের জঘন্যতম এই পরিবর্তন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীনতা লাভ করেছিল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যদা প্রতিষ্ঠাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রতিশ্রুতি। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান জাতীয় ও আঞ্চলিক পরিষদের জন্য নির্বাচিত সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান রচনা করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে এই সংবিধান অনুমোদন করেছিলেন তারা। এতে রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ও বিচার ব্যবস্থার ন্যূনতম স্বাধীনতা রাখা হয়েছিল। রাখা হয়েছিল বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। তবে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল ওই সংবিধানের আলোকে। অথচ, ২ বছরের মাথায় শেখ মুজিবুর রহমান এটাকে আমূল পরিবর্তনের তাগিদ অনুভব করলেন। মনে করলেন সংসদীয় পদ্ধতি-টদ্ধতি দিয়ে চলবে না। সকল ক্ষমতা তাঁর হাতে নিতে হবে। জনগনের ইচ্ছায় নয়, নিজের ইচ্ছামত দেশ চালাতে হবে। তাই ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সংবিধানে সংশোধনীর প্রস্তাব আনা হয়। এটা ছিল ওই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী। এ সংশোধনীটি কুখ্যাত সংশোধনী হিসাবে পরিচিত। এনিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে সময় নেওয়া হয়েছিল মাত্র ১১ মিনিট। কি পরিবর্তন করা হয়েছিল ১১ মিনিটের এই সংশোধনীর মাধ্যমে? সেটা সংক্ষেপে বলতে চাই। মৌলিক বিশেষ পরিবর্তনের মধ্যে ছিল সংসদীয় পদ্ধতি থেকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি চালু করা। শেখ মুজিবুর রহমান কোন করমের ভোট ছাড়াই নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে আজীবন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির মত ক্ষমতায় থাকার বিধান করা।সংবিধান সংশোধনীর পরপরই রাষ্ট্রপতি হিসাবে আজীবনের জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহন। বিচার ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি যেভাই চাবেন সেইভাবে বিচার ব্যবস্থা চলবে। যাকে ইচ্ছা, তাঁকে বিচারকের পদ থেকে অব্যাহতি দেবেন। যাকে ইচ্ছা তাঁকে নিয়োগ দেবেন। এই ক্ষমতা পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের ৪জন বিচারপতিকে এক আদেশে অপসারণ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। আরো জঘন্যতম বিষয় হল সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে। বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না। শুধুমাত্র ‘বাকশাল’ নামক শেখ মুুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল থাকবে। সভা-সমাবেশ করায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল মানুষের কথা বলার অধিকার। আর এই আওয়ামী লীগের মুখেই এখন গণতন্ত্রের সবক শুনতে হয়। পরবর্তীতে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউ রহমান এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত থেকে সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

নির্বাসিত সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন। তিনি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন

Sharing is caring!