বাহরাইনে বন্দীদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে: জাতিসংঘ

বাহরাইনের স্বৈরাচারী আলে খলিফা সরকার আবারো রাজনৈতিক বন্দীদের ওপর জুলুম নির্যাতন শুরু করেছে। নির্যাতনের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এমনকি জাতিসংঘও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

এদিকে বাহরাইনের জেলখানাগুলোতেও করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে বন্দীদের অবস্থার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বন্দীদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকার প্রতিবাদে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তারা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে রাজনৈতিক বন্দীদের অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয় এবং একজনের অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়। বন্দীদের দুরবস্থার বিষয়ে তোয়াক্কা না করে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কাতারের আল জাজিরা টিভি চ্যানেল মানামার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।

বাহরাইনে বন্দীদের অবস্থা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে আল জাজিরার প্রতিবেদকও উপস্থিত ছিলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বাহরাইনের বিভিন্ন জেলখানায় আটক রাজবন্দীদের দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে। এই করোনা পরিস্থিতিতেও তারা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এমনকি তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারবর্গ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির জনগণ প্রতিদিনই রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

এর আগে বাহরাইনের সরকারবিরোধী সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংগঠন জামিয়াত আল ওয়াফাকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, আলে খলিফা সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল জোর কোর স্বীকারোক্তি আদায় করার জন্য বন্দীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র মার্থা হোরতাদো বলেছেন, বন্দীদের অবস্থান ধর্মঘট ভণ্ডুল করার জন্য পুলিশ অপ্রয়োজনীয় ও অত্যন্ত অমানবিক সহিংসপন্থার আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বন্দীদের ওপর শব্দবোমা ছুড়ে মারায় তা এক বন্দীর মাথায় গিয়ে লাগে এবং মারাত্মক আহত হয়ে পরে সে মারা যায়।

এ ছাড়া সরকার বন্দী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য পরিবারের কারোর সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না এবং এমনকি উকিলের সাথেও না। বাহরাইনের জগণের আধ্যাত্মিক নেতা শেইখ ঈসা কাসেম নিরপরাধ বন্দীদের সাথে সরকারের এ ঘৃণ্য আচরণের সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার যদি তাদের নীতিতে পরিবর্তন না আনে তাহলে দেশের পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করবে। তিনি বলেন জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায় এবং সংগ্রামীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে।

কিন্তু তারপরও সরকার আলোচনার পথে না গিয়ে সহিংসতার নীতিতে অটল রয়েছে।

Sharing is caring!