স্বেচ্ছাচারীদের ভাষায় !! বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর নামে ডাকা উদ্দেশ্যহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ সাধারণ সভা ; অতঃপর নানান জিজ্ঞাসা !!?

গত ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মন্ট্রিয়াল এর বর্তমান কমিউনিটি ও সভাপতি দেওয়ান মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা সদস্য গাজী কমল ও তার কিছু সাংগঠনিক সঙ্গীদের আহবানে সংগঠনে গণতন্ত্র ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে ডাকা বিশেষ সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গাজী কামরুল হাসান কমলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিদ্রোহী সভায় সংহতি জানিয়ে এসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতির সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন, সহসভাপতি রনী মালিক, কামরুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক, মাহমুদুল ইসলাম সুমন, সাইদ আহান্মেদ হিলু, লাল শরিফ, শাহজাহান শামিম, সুলতান আহন্মেদ, শামিম আরা ভুইয়া, আসাদুজ্জামান, শমির, পাপিয়া ও হাসান জাহীদ সহ আরো অনেক সদস্য।

এছাড়া মিঃ নাহিদ, মিঃ মোতালেব, মিঃ রুমু, মিঃ দুলাল, মিঃ জাকির ও মিঃ বকর সিদ্দকী সহ অনেক প্রাক্তন সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সভাচলাকালিন ফোন করে সংহতি প্রকাশ করেন, সভায় উপস্হিত সবাই তাদের বক্তব্যে প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির গৌরব ফেরাতে নেতৃত্তের পরিবর্তন ও সংগঠনে গণতান্ত্রিক চর্চা উপর জোর দেন এবং বর্তমান সভাপতির দীর্ঘ সাত আট বছর যাবত সাধারন সভা কিংবা নির্বাচন আয়োজন না করে সভাপতির পদ আকরে থাকার তীব্র সমালোচনা করেন।

এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে এসোসিয়েশন এর বিক্ষুব্ধ সদস্যরা বর্তমান সভাপতিকে বার বার সাধারন সভা আয়োজনের জন্য বিভিন্ন ভাবে অনুরোধ করে ব্যর্থ হওয়ার পর এসোসিয়েশনের প্রাক্তন ও কিছু বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে এই বিশেষ সভাটি আহবান করতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মন্ট্রিয়াল এ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সাধারন সভার পটভূমি –

১) বর্তমান কায্যনিবাহী কমিউনিটির
সভাপতি দেওয়ান মনিরুজ্জামান এর সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক আচরন এবং তার সকল কাজের সহযাত্রী ও অংশিদার সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমানের অযৌক্তিক সমর্থন।

২) দীর্ঘ ছয় বছর যাবত সাধারন সভা আহবান না করে অন্যায় ভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা।

৩) সভাপতির নিজের পছন্দের মানুষকে যারা বর্তমান সভাপতির অনুগত তাদেরকেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অনান্যদের কমিটি থেকে কৌশলে বাদ দেয়া।

৪) কমিটিতে একটি বিশেষ জেলার মানুষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ঘটিয়ে তার ক্ষমতাকে দীর্ঘ করার চেষ্ঠা করা।

৫) সংগঠনের অনুষ্ঠান পরবর্তী আয় ও ব্যায় এর হিসাব না দেয়া।

৬) সংগঠনে কোষাধ্যক্ষ পদে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব নিজে রাখা।

৭) ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে মন্ট্রিয়াল শহরের অধিকাংশ সংগঠনের সাথে সহযোগি কিংবা মৈত্রীর বন্ধন তৈরী না করে নানান উপায়ে অসহযোগীতার সম্পর্ক সৃষ্টিতে ব্যর্থ হওয়া।

৮) পুরানো ও সন্মানীত সদস্যদের যথাযত সন্মান ও মুল্যায়ন না করা।

৯) নারী সদস্যদের যথাযত সন্মান ওমর্যাদাপূর্ণ আচরণ না করা এবং কমিটিতে জেন্ডার ব্যালান্স করতে ব্যর্থ হওয়া।

১০) বর্তমান সভাপতি তার অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠায় কমিউনিটির কিছু বিতর্কিত ব্যাক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করেছেন।

উল্লেখিত অভিযোগগুলো বাংলাদেশী কমিউনিটিতে আলোচিত হওয়ার পটভূমিতে এই বিশেষ সাধারন আহবান করা হলেও বর্তমান সভাপতি তার সহযোগিরা এই সভাটিকে বেআইনি,উদ্দেশ্যহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ সাধারন সভা হিসেবে আক্ষা দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।

Sharing is caring!