গরীবের ১৬০০ কোটি টাকা হাওয়া! বাজেটে মিথ্যাচার

নকীব মাহমুদ, ঢাকা
এবার ২০২১-২২ সালের বাংলাদেশে ঘোষিত বাজেটে বড় মিথ্যাচার করা হয়েছে। যাকে শুভঙ্ককরের ফাঁকি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বছর করোনায় সারাদেশে ৩৫ লাখ মানুষকে সাহায্য করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশের ভোটারবিহীন সরকার। এজন্য তারা ১২০০ কোটি টাকার ঘোষণাও দেয়। কিন্তু সেই টাকার আড়ালে পাশ করা হয়েছিল ১৬০০ কোটি টাকা। যা এতদিন গোপন থাকলেও এবারের বাজেট পাশের সময় তা প্রকাশ হয়ে গেছে।

২০২১-২২ বাজেট খসড়ায় দেখা গেছে, ব্যয়ের হিসেবে গতবার দুই দফায় ৮০০ কোটি করে ১৬০০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। আর এই টাকা পুরোটাই ৩৫ লাখ দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এও দাবি করা হয়েছে যে ২৫ লাখ পরিবারকে তারা আড়াই হাজার করে দুই দফায় (করোনার মাঝামাঝি ও ঈদুল ফিতরে) ৫ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। এ টাকা দেওয়া হয়েছে নগদে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই টাকা পেল কারা?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর ভোটারবিহীন সরকারের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অফিসে দেশের মানুষকে আড়াই হাজার করে টাকা সাহায্য পাঠানোর জন্য একটি অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণাও দেন ৩৫ লাখের প্রত্যেক পরিবার আড়াই হাজার করে টাকা পাবে। সেই বার ১২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে বলে ঘোষণায় বলা হয়। আরও বলা হয়েছিল, এই টাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। কিন্তু তালিকায় দেখা গেছে, একই ব্যক্তির ফোন নাম্বার অন্তত দুইশত জায়গায় বসানো হয়েছে। আর নামকাওয়াস্তে কিছু নাম বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বছর অভিযোগ ওঠে, এই টাকা মেম্বার, চেয়ারম্যান ও এমপিরা তাদের আত্মীয় স্বজনের মাঝে বিতরণ করেছেন। নিজের নাম ও মোবাইল নাম্বার বসিয়ে খেয়াল খুশিমত সেই টাকা তুলেছেন। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরই সমালোচনা শুরু হয়। এরপর ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও বিষয়টি তদন্ত করে তালিকা করে সেই টাকা বিতরণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই তালিকা পরবর্তীতে আর হয়নি বলে জানা গেছে।

এতদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও এবার বাজেট প্রকাশের খসড়া তালিকায় ব্যয় হিসেবে তা দেখানো হয়েছে। তবে আগে বলা হয়েছিল ৩৫ লাখ দরিদ্রদের মোবাইল আড়াই হাজার করে ১২০০ শত কোটি টাকা পৌঁছাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা ছিল ১৬০০০ কোটি টাকা। যা দুই দফায় ৮০০ করে দেওয়া হয়েছে বলে এবারের বাজেট খসড়ায় দাবি করা হয়েছে। তার মানে হলো-খুব গোপনেই ৪০০ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন ব্যাখ্যা জানতে চায়নি দেশের ভোটারবিহীন সরকারের নতজানু গণমধ্যমগুলোর সংবাদকর্মীরা। বিষয়টি অনেকের চোখও এড়িয়ে গেছে। তবে আমাদের চোঁখ কিছুতেই এড়ায়নি। বাজেট ঘোষণার দিনই সেটি চোখে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর ১২০০ কোটি বিতরণে নানা অভিযোগ থাকার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি ভোটারবিহীন সরকারের প্রশাসন। উল্টো তাদের দিয়ে নানা ত্রাণ ও বিতরণে কাজ করে যাচ্ছে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সরকার। দেশের কুড়িগ্রাম, বগুড়া, কুষ্টিয়া, বরিশাল, যশোর, ফরিদপুর, ময়মনসিংহসহ নানা জেলায় এই টাকা বিতরণের তালিকায় স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমনি যারা স্বচ্ছল তারাও এই টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। যদিও এই টাকার সবটাই দরিদ্রদের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। তবে এনিয়ে দরিদ্র মানুষের কোন মাথা ব্যাথাও নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১২০০ কোটি বিতরণের কথা বলে বাজেটে তার ব্যয় ১৬০০ কোটি টাকা দেখানো মানেই হলো বাকী টাকা লুটপাট হয়েছে। আর এই টাকা গোপন করার অর্থ হলো উর্ধতনরাও এ টাকার ভাগ পেয়েছে।

Sharing is caring!