গণপরিবহণ চালু: স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

সাবিত মোস্তফা

দেশে লকডাউনের দুই দিন কোন গণপরিবহন চলেনি। কিন্তু গতকাল থেকে আবারও গণপরিবহন চালু হয়েছে। তবে কোন গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না। মানা হয়নি কোন নিয়ম ও নিদের্শনাও। প্রতিটি সিটে যাত্রী নেয়া ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। ফলে যাচ্ছে তাই অবস্থায় লক্ষ্য করা গেছে প্রতিটি গণপরিবহনে।

জানা গেছে, আজ বুধবার ৭ এপ্রিল সকাল ছয়টা থেকে চালু হয় গণপরিবহন। কিন্তু এসব পরিবহনে কোন যাত্রী তোলা হলেও হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার করা হয়নি। কোন বাসে হ্যান্ড স্যারিটাইজার পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসা করলে হেলপাররা এক কথায় জবাব দিয়েছেন, মালিক জানে। এমনকি প্রতিবার গাড়ি ছাড়ার আগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কথা থাকলেও কেউ কেউ মানলেও সেটি বেশির ভাগ বাস মালিকরাই মানেনি। অফিসগামী মানুষেরাও বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই গন্তব্যে ছুটেছেন। গতকালও রাস্তায় বেশির ভাগ সময়ই দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। প্রতিটি বাসে কোন হেলপার ও যাত্রীর মুখে মাস্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেক রুটের বাসে গাদাগাদি করেই যাত্রী তোলা হয়েছে। আবার অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করেছে বাসের হেলপাররা।

মোহাম্মদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রজনীগন্ধ্যা বাসের হেলপার রুবেরের মুখে কোন মাস্ক ছিল না। বাসে যাত্রী তোলার সময় তিনি হ্যান্ড স্যানিটাইজারও যাত্রীদের হাতে দিচ্ছেন। বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে কিনা জানতে চাইলে তার জবাব হলো, মালিক তো গাড়িই ঠিকভ করে না। আবার হ্যান্ডওয়াশ দিবে কিভাবে! হ্যান্ডওয়াশ চাইলে বিরক্ত হয়। ভয়ে কিছু বলি না।

সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে আসা তুরাগ পরিবহনের মহসিন বলেন, আমাদের কিছু করার নাই। মালিকরা এসব দেয় না। আর এসব কেনার বাড়তি টাকা পামু কই? প্রতিবার গাড়ি ছাড়ার আগে গাড়ি পরিষ্কার করা হয় কিনা এমন প্রশ্নেও বাস চালকরা বলেছেন, তারা লোকাল বাস চালান। এসব বাস প্রতি পনেরো দিনে একবার ধোয়া হয়। প্রতিদিন ধোয়ার জন্য অতিরিক্ত লোক দরকার। মালিক তাদের প্রতিদিনের আয়ের টাকাই ঠিকভাবে দিতে চায় না। আর এই শ্রমিক নেয়ার কথা জানালে বাস চালাতেই দেবে না। এই কারণে তারাও কোন টু শব্দও করেন না।

তারা বলেন, মালিকরা চাইলে পারে কিন্তু তারা বাড়তি টাকা খরচ হবে বলে করেন না। রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী থেকে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাওয়া কোন বাসেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি বেশির ভাগ চালক ও হেলপারদের মুখে ছিল না মাস্ক।

মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে রাইদা পরিবহনের এক কন্ডাক্টর বলেন, ভাই শত শত মানুষ ওঠে বাসে, মুখে এক টুকরা কাপড় দিয়া কি করোনা থেইকা বাঁচা যাইবো? তুরাগ বাসের যাত্রী রাকিব বলেন, আমরা তো মাস্ক ব্যবহার করছি। কিন্তু বাসে আমাদের তোলার সময় কোন হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হলো না। হেলপারকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে বলে মামা সেটা তো নাই। আর কি বলব বলেন, এসব তো আমরা বাড়ি থেকে আনবো না।

সরকারঘোষিত সাত দিনের নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিনে রাজধানীসহ সিটি করোপরেশন এলাকাগুলোতে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণপরিবহ চলাচরের অনুমতি দিয়েছে। তবে বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে যে নির্দেনা দিয়েছে, তা মানছে না পরিবহন মালিকরা।

এ বিষয়ে ঢাকা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলী বলেন, আমরা প্রতিটি বাস মালিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালানোর জন্য বলেছি। তারা বিষয়টি মানছে না এমন কোন অভিযোগ পাইনি। তবে যারা মানছে না, তাদের সতর্ক করছি।

তবে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানতে পূর্ব ঘোষিত ১৮ দফা নির্দেশনা বহাল আছে। সেই সঙ্গে ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দেশের আন্তঃজেলা বাস চলাচল ও রেল যোযাযোগ। এই নির্দেশনায় গণপরিবহন চলাচলে যে নিয়ম বেধে দেয়া হয়েছে সেসব দেখার যেন কেউ নেই।

Sharing is caring!