ভোট না দেয়ায় সালিশ বসিয়ে নির্যাতন

দেশের সব জায়গায় চলছে ক্ষমতার অপব্যাবহার। যে যেভাবে পারছে তার ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে গ্রামের মেম্বার পর্যন্ত। যার প্রমাণ আরও একবার পাওয়া গেল কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায়।

ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে মো. সিদ্দিকুর রহমানকে ভোট না দেওয়ায় একই ওয়ার্ডের মাওলানা মমিনুল ইসলামকে সালিশি বৈঠকে ডেকে নির্যাতন ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে বুধবার বিকালে ভুক্তভোগী মাওলানা মমিনুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী মাওলানা মমিনুল ইসলাম জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন করেন মো. সিদ্দিকুর রহমান। ওই নির্বাচনে তিনি তাকে ভোট না দেওয়ায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল সিদ্দিকুর রহমানের লোকজন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকালে সদ্য নির্বাচিত সিদ্দিকুর রহমান মেম্বার ও তার লোকজন সালিশি বৈঠক ডাকে। ওই বৈঠকে নির্বাচনে তাকে ভোট না দেওয়ায় মাওলানা মমিনুল ইসলামকে শারীরিক নির্যাতন করে সিদ্দিকুর রহমান মেম্বারের লোকজন। এ সময় মমিনুল ইসলামের মা আসিয়া খাতুন (৮০) তার ছেলের পক্ষে সালিশিদের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও মাওলানা মমিনুল ইসলাম ও তার বড় ভাই মো. রফিকুল ইসলামকে কান ধরিয়ে ওঠবস করায় ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করে।

এ দিকে অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান মেম্বার জানান, আমি সালিশি বৈঠকে ছিলাম। জরিমানার কথাটি শুনেছি।

এ ব্যাপার সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

Sharing is caring!