প্রায় ৩৫ লাখ পরিবার ৯৩০ কোটি টাকা পাবে তো!

নকীব মাহমুদ, ঢাকা:

গতবারও ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশের হতদরিদ্রদের আড়াই হাজার করে টাকা দেয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশের ভোটারবিহীন আওয়ামীলীগ সরকার। এবারও তারা একই উদ্যোগ নিয়েছে। আবার তারা প্রায় ৩৫ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা দেবেন বলে জানিয়েছে। কিন্তু এ টাকা ওই পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশের সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, এবারও ভোট চুরি করে গঠিত সরকার লুটপাটের আয়োজন করেছে। তারা ৯৪০ কোটি টাকার পুরোটাই লুটে খাবেন। দেখা যাবে, গুটি কয়েক লোক ছাড়া কেউ সেই টাকা পায়নি। কারণ এখনো কোন তালিকা হয়নি। কিন্তু তার আগেই তারা বাজেট করেও রাখলেন।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এক বার্তায় জানিয়েছেন, ভোটারবিহীন সরকার
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের প্রায় ৩৫ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে। এ ছাড়া সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এক লাখ কৃষক পরিবার পাবে পাঁচ হাজার করে। এ জন্য সরকারের ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিসের ভিত্তিতে এই ক্ষতির শিকার কৃষকের তালিকা করা হলো। আর কারাই বা করলো এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা। তারা এই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রকৃত কৃষকদের নাম তালিকায় তোলার জন্যও দাবি করেছেন। তারা আরও বলছেন, প্রতিটি কৃৃষককে ৫ হাজার করে টাকা দেয়ার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তাতে দেখা যাবে, কোন কৃৃষকই নেই। গ্রামের আওয়ামী লীগের নেতারা সেই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। যদিও সেই তালিকা এখনো প্রকাশ করেনি দুর্নীতিবাজ সরকারের প্রশাসন। তবে তালিকা এখনো হয়নি। তালিকায় কাদের নাম আসছে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।

এদিকে সচতেন নাগরিকরা মনে করছেন, এবারও এই টাকার পুরোটাই লুটপাট করবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের লোকেরা। তারা ইচ্ছে মত নাম ও মোবাইল নাম্বার বসিয়ে টাকা তুলবেন। দেশে হত দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সেই তালিকা এখনো তারা করেনি। উল্টো অনুমান নির্ভর ৩৫ লাখ পরিবারকে এই অর্থ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার ৯৩০ কোটি টাকা ৩৫ লাখ পরিবারের কাছে পৌছাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান দেশের সচেতন মানুষ।

আওয়ামী লীগের ভোটারবিহীন সরকার দাবি করেছে, ৪ এপ্রিলের ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ৩৬টি জেলার ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ১০ হাজার ৩০১ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৯ হাজার ৩২৬ হেক্টর ফসলি জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত বছর প্রায় সাড়ে ১২শত টাকা মাত্র দুই দিনেরই লুটে নেয় আওয়ামী লীগের নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশামনের কর্মকর্তারা। পরে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালিকা সংশোধন করতে বলা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর আলোর মুখে দেখেনি। গতবারের বিষয়টির সমাধান না করেই আবারও লুটের আয়োজন করা হলো। যদিও ভোটারবিহীন দুনীতিবাজ সরকার দাবি করেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে যাচাই–বাছাই করে প্রায় ৩৫ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়েছিল।

#এনএম

Sharing is caring!