ভারতে ৪ লাখ শনাক্ত, গুজরাটে হাসপাতালে আগুন

ভারতে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আজ (শনিবার) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৪ লাখ ১ হাজার ৯৯৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন। একইসময়ে ৩ হাজার ৫২৩ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিনেমা হল, শপিং মল, রেস্তোরা, বিউটি পার্লার, বার ক্রীড়াঙ্গন, জিম, স্পা, সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বাজার-হাট খোলা থাকবে সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকেল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। ওষুধের দোকান ও মুদিখানাকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, গুজরাটের ভারুচে একটি কোভিড হাসপাতালে অগুন ধরে যাওয়ায় ১৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী ও অন্য নেতারা ওই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

অভিশপ্ত হাসপাতালটিতে কমপক্ষে ৫০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে অর্থাৎ রাত প্রায় ১ টা নাগাদ সেখানে আগুন ধরে গেলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মানুষজন এবং দমকল কর্মীরা কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন। আজ (শনিবার) পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সকাল ৬ টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৮ জনে পৌঁছেছে। ওই দুর্ঘটনার পর পরই ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল।

ভারুচের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা রাজেন্দ্র সিং বলেন, অগ্নিদগ্ধ ও দম বন্ধ হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার সময়ে অথবা আগুনের কারণেই হল কী না তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

আজ সরকারি সূত্রে প্রকাশ, দেশে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৯১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৩ জন (১.১১ শতাংশ)। সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৬ জন (৮১.৮৪ শতাংশ)। বর্তমানে হাসপাতাল অথবা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ৭১০ জনে পৌঁছেছে (১৭.০৬ শতাংশ)। গতকাল (শুক্রবার) ওই সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ ৭০ হাজার ২২৮।

দেশে এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ২২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭৯ জনের ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার মধ্যে এই প্রথম একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়াল, যা সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ নিয়ে একটানা ১০ দিন দৈনিক ৩ লাখের বেশি সংক্রমণ হল।

Sharing is caring!