ঢাকা কলেজের ছাত্রদের তুলে নেয়ার অভিযোগ

নিউমার্কেটে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় ঢাকা কলেজের বেশ কিছু ছাত্রকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা কলেজের ছাত্রদের অভিযোগ, ডিবি পুলিশ, র‌্যাব, থানা-পুলিশ ও সিআইডি এসব ছাত্রকে তুলে নিয়ে গেছেন। কাউকে হল থেকে আবার কাউকে হলের আশপাশ থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে।

তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ইউনিট।

তবে, ডিবির একটি সূত্রে জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত বেশ কিছু ছাত্র ডিবি হেফাজতে আছে। আটক কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সময় সম্মুখ সারিতে থাকাদের একটি তালিকাও করেছে ডিবি। সেখানে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের নাম আছে।

এদিকে গত রবিবার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হল থেকে এক ছাত্রকে আটক করা হলেও সোমবার তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে হল ছেড়ে চলে গেছেন বেশির ভাগ ছাত্র। যারা আছেন তারাও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সরেজমিনে ছাত্ররা জানান, আতঙ্কে হল ছেড়ে চলে গেছে বেশির ভাগ ছাত্র। ছাত্রদের অভিযোগ, অনেক সাধারণ ছাত্রকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন হলের নেতৃত্ব স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা। সংঘর্ষের সময়ও পুলিশ ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে ছাত্রদের ওপর টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ তাদের।

ডিবি কত জনকে আটক করেছে জানতে চাইলে ডিবি রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক সোমবার তার কার্যালয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত হওয়ায় পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে আমাদের কাজের অগ্রগতি অনেক ভালো। যাচাইবাছাই শেষে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে নিউমার্কেটে দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকাল থেকে আবার দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দিনভর সংঘর্ষে গুরুতর আহত নাহিদ ও মোরসালিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি এবং নিহত দুজনের স্বজনরা দুটি মামলা করেছেন। এর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা-মামলায় বিএনপির এক নেতাসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ছাড়া সবগুলো মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০।

Sharing is caring!