তরুণীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা: বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তার বড় বোন বাদী হয়ে গুলশান থানায় এ মামলা করেছেন। মামলায় দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) সায়েম সোবহান আনভীরকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এই মামলায় ওই তরুণীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২৬ এপ্রিল সোমবার রাতে ফ্লাট থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতেই মামলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তানভীরকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক বলছে সচেতন মানুষজন। ওই তরুণীর বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুনিয়া ঢাকার একটি কলেজে পড়াশুনা করতেন। তবে ওই ফ্লাটে তিনি একাই থাকতেন। যার ভাড়া প্রতি মাসে ছিল লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী নিশ্চিত করে বলেছেন, রাতে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর-২৭।

নুসরাত জাহানের বরাত দিয়ে গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল হাসান ফিরোজ বলেন, মুনিয়ার সঙ্গে একজনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মুনিয়া সেখানে একাই থাকতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান তানভীরের বিরুদ্ধে তার কাজের লোককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তার আগে একজনকে তিনি হত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ থাকলেও সেটির কোন বিচার হয়নি। তবে গতকাল তরুণীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত কার খবরটি বাংলাদেশের কয়েকটি ছাড়া কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

মুনিয়া রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লা শহরে। সেখানেই থাকে তার পরিবার। জানা গেছে, মামলার আসামি করা হয়েছে দেশের একটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)।

মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে নুসরাত জাহান বলেন, আমি নিজে বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেছি। তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি না হলেও তিনি বলেন, মামলাটি হয়েছে একজন বিশিষ্ট শিল্পপতির ছেলের বিরুদ্ধে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান ২-এর ১২০ নম্বর সড়কে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে মুনিয়ার বড় বোন দরজা বন্ধ পান। ধাক্কাধাক্কি করলেও দরজা খুলছিল না। এর কিছুক্ষণ আগে থেকে তার ফোনও বন্ধ ছিল। এরপর ফ্ল্যাট মালিকের উপস্থিতিতে মিস্ত্রি দিয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের পর গুলশান থানার পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট। পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মুনিয়ার ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো জব্দ করেছে।

এদিকে এই ঘটনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমের হাতে গোনা দু একটি ছাড়া কোনটাতেই সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ চলছে। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন ধনীদের পক্ষে। গরীবের পক্ষে তারা আর কথাই বলে না। দলীয় তেলবাজির কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। অনেকে বলেছেন, হাতে গোনা দুটি ছাড়া বাংলাদেশে সব গণমাধ্যম এখন চটি গণমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

Sharing is caring!