চোখে সরষে দেখছে হেফাজত

নকীব মাহমুদ, ঢাকা:

ভোটারবিহীন সরকারের নানা চাপে এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে দেশের কওমী আলেমদের নিয়ে গঠিত হেফাজতে ইসলাম। দলটির এখন পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক নেতা কর্মীকে জেলে পুড়েছে আওয়ামী লীগের সরকার। শুধুমাত্র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দেওয়ার কারণে বলে এমনটি মনে করেন তারা। এক সময়কার টগবগে হেফাজত এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। দলটির প্রথম সারির
নেতারা গ্রেফতারের পর অনেকেই চোখে সরষে ফুল দেখতে শুরু করেছে। ফলে হেফাজতের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় পড়েছে তারা। তবে হেফাজতের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন দেশের জনমতহীন সরকারের হাতে। তারা চাইছে দ্রুত একটি লোক দেখানো কমিটি করবে। আর সেই কমিটিতে স্থান করে দেবে সাবেক হেফাজত নেতা আল্লামা শফির অনুসারীদের।

সম্প্রতি রাজধানীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হেফাজত নেতারা গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তারা দেশের স্থানে আটক ও গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। সেই সঙ্গে বন্ধ মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু সেই দাবির কোনটাই এখনো পূরণ না হওয়ায় তাদের বোধদয় আসতে শুরু করেছে। তারা বিশ্বাস করতে শুরুও করেছেন ভোটারবিহীন সরকার তাদের দাবি মানবে না। মাদ্রাসাও খুলবে না। ফলে আবারও হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন। তারা সেখানে হেফাজতের ৫ সদস্যের একটি কমিটি দেখা করবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার হেফাজতকে জামায়াতে ইসলামীর মতোই কোনঠাসা করতে চায়। এজন্য তাদের সকল ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি কঠোর নজরদারীও শুরু করেছে। গোয়েন্দাদের দিয়ে মাঠে মাঠে তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ক্যালেঙ্কাকারীতে গ্রেফতার হওয়া মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো গুরুত্বের সাথেই তদন্ত চলছে। অন্যদিকে হেফাজতের যেসব নেতারা রাতারাতি ধনীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং তাদের আন্দোলনের অর্থ কোন কোন দেশ থেকে আসতো তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজও শুরু করেছে।

এ বিষয়ে হেফাজতের আহ্বায়ক কমিটির মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন তো হচ্ছে না, উল্টো আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারপরও আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি।’

সরকার কথা রাখছে না। এ বিষয়ে আপনাদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়ার তো কিছু হয়নি। তারা (সরকার) বাস্তবায়ন করে কি না, সেটা দেখছি। কীভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেটার অপেক্ষা আছি আমরা।’

সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন তো হচ্ছে না, উল্টো আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারপরও আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তো আমাদের দুবার দেখা হয়েছে। আপাতত আর দেখা করার চিন্তা-ভাবনা নেই। কিন্তু আমাদের যোগাযোগ আছে। দেখি কী হয়?’

এদিকে, সরকারের সঙ্গে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত আমির আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারীদের যোগাযোগ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতের। তারা বলছেন, শফীপন্থী অনুসারীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। খবর শোনা যাচ্ছে, তারা নাকি হেফাজতের নামে কমিটি করবে। কিন্তু তাদের আগে জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বাধীন যে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি আছে সেটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজও গুছিয়ে আনা হয়েছে। তবে এবার কমিটিতে ভারসাম্য আনা হবে। সেখানে সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এমন নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সরকারের বিরাগভাজন হলে নতুন ঝামেলায় পড়তে হবে সংগঠনটির।

অচিরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এ নিয়ে কাজ চলছে। ঘোষণা হলে জানতে পারবেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, অচিরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এ নিয়ে কাজ চলছে। ঘোষণা হলে জানতে পারবেন।

হেফাজতের কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কাউকে রাখা যাবে না— সরকারের পক্ষ থেকে এমন শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এমন শর্ত আরোপের বিষয়টি আমার জানা নেই। সরকার আমাদের এ ধরনের কোনো শর্ত দেয়নি।’

Sharing is caring!