হুদার বিরুদ্ধে সাকির মামলা

দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করার পেছনে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত সেটি হলও, কে এম নূরুল হুদা। যার হাত ধরেই এদেশে রাতের ভোটের জন্ম হয়েছে। তবে তার নির্বাচন কমিশনার থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি এই পদ ছাড়বেন। তবে সেই পদ ছাড়ার আগেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছেন গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

গণসংহতি আন্দোলন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন চেয়ে ২০১৭ সালে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতা অবমাননার মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, বুধবার কে এম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে মামলাটি করেন জোনায়েদ সাকি।

২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর গণসংহতি আন্দোলন নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করে। পরের বছর ১৯ জুন চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন জানায়, নিবন্ধন করা যাবে না। এ নিয়ে গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন।

উভয় পক্ষের শুনানির পর ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল উচ্চ আদালত রায় ও আদেশের কপি প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে উক্ত রায় ও আদেশের সত্যায়িত কপি যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনকে দাখিল করা হয়। আদালত থেকেও নিয়ম অনুযায়ী রায় ও আদেশের কপি প্রেরণ করা হয়।

কিন্তু আদালতের সুস্পষ্ট রায় ও নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কোনোপ্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোন ফল না পাওয়ায় গত বছরের ১০ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠায় গণসংহতি।

ওই নোটিশ প্রাপ্তির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে বুধবার গণসংহতির পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে মামলা করেন জোনায়েদ সাকি।

Sharing is caring!