নাগরিক EXCLUSIVE : লম্পট এবং স্ত্রী নির্যাতনকারী শওকত আলী ইমন গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

শওকত আলী ইমন

লাম্পট্য, ঘরে স্ত্রী রেখে অন্য নারীর সাথে পরকীয়া করে বেড়ানো নেশায় পরিণত হয়েছিল সুরকার শওকত আলী ইমনের। এ বছর তৃতীয় বার বিয়ের পিঁড়িতে যখন তিনি বসলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো এবার তিনি অন্য নারীদের আসক্তি থেকে বের হয়ে আসবেন। কিন্তু কয়লা ধুলে যেমন ময়লা যায় না, শওকত আলী ইমনেরও একই অবস্থা ! নাগরিক টিভি অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে নতুন স্ত্রীকে বিয়ের পর থেকেই শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি। তাছাড়া অন্য নারীদের সাথে তার পরকীয়া নিয়ে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সাথে তার দাম্পত্য কলহ লেগে ছিল।

তৃতীয় স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সংগীত পরিচালককে গ্রেফতার করেছে রাজধানীর রমনা থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে ইস্কাটনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মাহফুজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরিক টিভির ঢাকা প্রতিনিধির কাছে।

পুলিশ জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর শওকত আলী ইমনের স্ত্রী রিদিতা রেজা বাদী হয়ে রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইমনকে শুক্রবার রাতে তার ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকা রিদিতা রেজাকে বিয়ে করেন শওকত আলী ইমন। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী বিজরী বরকতউল্লাহর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর তিথি কবির নামে এক নৃত্যশিল্পীকে বিয়ে করেছিলেন। তিথির সঙ্গেও তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বিচ্ছেদের পর আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক স্ত্রী তিথি রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গ্রেফতার হয়ে শওকত আলী ইমন কারাগারে ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই তাহমিনা আক্তার তৃণা জানান, স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় ইমনকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির বর্তমানে তদন্ত চলছে।

Sharing is caring!