এবার ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা

ভারত থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পালিয়ে আসছেন রোহিঙ্গারা। গত ১০ দিনে ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা।

পালিয়ে আসা অন্তত ৮০০-১০০০ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে এক ট্রানজিট কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এর বাইরেও প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিষয়টি জানিয়েছেন ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মো. নাঈমুল হক।

ভারত থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন, ‘ভারতে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ধড়পাকড়-নির্যাতন দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত রোহিঙ্গা পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসছেন। গত ১ মাসে প্রায় ২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে তারা দাবি করেন। এর মধ্যে উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয়শিবিরসহ কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা।’

রোহিঙ্গারা আরও বলেন, ‘ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা এসে কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন। সেখানে দালালেরা রোহিঙ্গাদের পৌঁছে দেয় সিলেট-মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তের কাছে। পরে পাঁচ থেকে ছয়জনের দলে বিভক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের কাঁটাতারের বেড়ার নিচ দিয়ে বাংলাদেশ ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর বাংলাদেশি দালালেরা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে পৌঁছে দেয়।’

ইতোমধ্যে আশ্রয়শিবিরে ভারত থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, ভারত থেকে আরও অন্তত ৩ হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশের চেষ্টায় আছেন। তারা ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন।

ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের খরচ সম্পর্কে রোহিঙ্গারা জানান, কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য জম্মু-কাশ্মীরের দালালদের ১০ বছরের বেশি রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু ১৫ হাজার রুপি এবং ১০ বছরের নিচের শিশুদের মাথাপিছু ৫ হাজার রুপি দিতে হয়। কলকাতায় পৌঁছার পর রুপি পরিশোধ করতে হয়। এর পর বাংলাদেশে ঢোকার পর কক্সবাজার পৌঁছাতে বাংলাদেশের দালালদের মাথাপিছু ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।

Sharing is caring!