সব নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে: ভিয়েনায় আরাকচি

মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানের সংসদ ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশান প্ল্যান’ নামে যে প্রস্তাব পাশ করেছে দেশটির সরকার তা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এবং ইউরোপীয়রাও তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় পর ইরান এ পদক্ষেপ নেয়।

পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইরান ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান ভিয়েনায় পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের বৈঠকে যোগ দিয়েছে। ভিয়েনায় চলমান আলোচনায় ইরানের কর্মসূচি ও লক্ষ্যের বিষয়টি স্পষ্ট। আর তা হচ্ছে আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া সমস্ত নিষেধাজ্ঞা একবারে উঠিয়ে নিতে হবে এবং সত্যিই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই ইরান পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে এবং নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসবে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি গতকাল ভিয়েনায় যৌথ কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘পরমাণু সমঝোতার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা থেকে শুরু করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনকাল পর্যন্ত সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে অবশ্যই সেগুলোকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ভিয়েনা বৈঠকে দু’টি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেন যাদের কাজ হবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি তৃতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের বিষয়ে আজ থেকে শুরু হওয়া ভিয়েনা বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এদের কাজ হবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলো কিনা তা যাচাই করা এবং সব পক্ষের প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ভিয়েনায় চলমান আলোচনা গ্রহণযোগ্য ফলাফলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আলোচনা প্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘায়িত না হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা অতীতে দেখা গেছে দীর্ঘ আলোচনা করেও সংকট সমাধানে তা কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

এদিকে, ভিয়েনায় জাতিসংঘ সংস্থাগুলোতে ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধি দল পরমাণু বিষয়ক আলোচনায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর নির্দেশনা মেনে চলছেন।

ভিয়েনায় চলমান বৈঠকের ব্যাপারে ইরানের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট এবং দেশটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চলছে। এ অবস্থায় ইরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা একবারে তুলে নেয়া ছাড়া পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার আর কোনো পথ খোলা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপপ্রধান এনরিকা ম্যুর ভিয়েনা বৈঠক সম্পর্কে বলেছেন, সব পক্ষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পরমাণু সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার দাবি জানাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কিছু কিছু আশাবাদ সত্বেও পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনা থেকে খুব ভালো কোনো ফলাফল বের করে আনা অত সহজ হবে না। সব পক্ষ যদি সত্যিই আন্তরিক হয়ে থাকে তাহলেই কেবল আলোচনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। #

Sharing is caring!