শিক্ষার্থীদের বোকাই বানাল জাফর ইকবাল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন যখন সরকারের নাগালের বাইরে চলে যায় , তখনই মরিয়া হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগ সরকার। যেকোন ভাবে এই আন্দোলনকে থামানোর কূটকৌশল করতে থাকে। তারা পেয়েও যায় ‘অব্যার্থ’ অস্ত্র অধ্যাপক জাফর ইকবাল।

যখন শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে রাজি হয় না। তখনই নানকের নেতৃত্বে একটি দল ছুটে যায় শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষক জাফর ইকবালের বাসায়। সেখানে বসেই এই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোকা বানানোর চক্রান্তটি হয়। আর আগে থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জাফর ইকবালের ২/১ জন কাজ শুরু করে দেয়।

জাফর ইকবালের এই অনুগত গ্রুপটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা না করেই ভিসির বাসভবনের পানি ও বিদ্যুতের লাইন দিয়ে দেয়। অথচ পানি-বিদ্যুৎ ছাড়া প্রায় হার মানার উপক্রম হয়েছিল ভিসি ফরিদ উদ্দিনের।

এরপরই গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হোন জাফর ইকবাল। শিক্ষার্থীদের বলেন, অনশন ভাঙো তোমরা, ভিসিকে সরিয়ে নেয়া হবে।

এরপরই শীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। জাফর ইকবালের অনুগতরা শিক্ষার্থীদেরকে নানাভাবে শক্ত আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলাফল এতদিন পরও ভিসি বহাল তবিয়তে।

এদিকে আজ শীক্ষার্থীদের সাথে একটি বৈঠকের নাটক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দিপুমনি। সেই বৈঠকের পরও সরকারের এই মন্ত্রী বলেছেন, ‘ ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমরা শুনেছি। আমরা এসব রাষ্ট্রপতিকে জানাবো। ‘ এই বক্তব্যেও স্পষ্ট সরকারের এখনই এই ভিসিকে নিয়ে কোন চিন্তা-ভাবনা নেই।

গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে শুরু হওয়া বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা বিরোধী আন্দোলনে ১৬ জানুয়ারি পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ৩০ শিক্ষার্থীকে আহত করলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনসহ আন্দোলন অব্যাহত রাখে শিক্ষার্থীরা।

গত ২৬ জানুয়ারি অনশন ভাঙার পর জাফর ইকবাল ও ইয়াসমিন হকের হাতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তুলে দেন।

এরপর ৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক পদ থেকে অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রক্টরের পদ থেকে বৃহস্পতিবার আলমগীর কবীরকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবির মধ্যে এ দুজনের অপসারণও ছিল।

Sharing is caring!