রাজধানীতে জামায়াতের শোডাউন

বহু দিন থেকেই সারাদেশে প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল জামায়তে ইসলাম বাংলাদেশ। বিএনপির অন্যতম এই শরীক দলটি এক সময় এদেশে সক্রিয় অবস্থানে থাকলেও, যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার ফাঁসি হবার পর থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায়। তবে গত কয়েক দিন ধরে ফের আলোচনায় আসে দলটি। বিএনপি জোট গঠন নিয়ে যেই আলোচনা শুরু করেছে, তখন প্রশ্ন উঠেছে জামায়াত নিয়ে। দলটিকে বিএনপি রাখবে কি রাখবে না?

এসব প্রশ্ন যখন সব জায়গায় ঘুরছে, ঠিক তখনই এই দলটি ঢাকায় তাদের শক্তি প্রদর্শন করলো। যদিও তারা বলেছে , দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের মুক্তির দাবিতে শনিবার বিকালে এ বিক্ষোভ মিছিল। তবে স্পষ্ট ছিল, বিএনপিকে একটা ইঙ্গিত দিয়ে রাখলও দলটি!

মিছিলটি মিরপুর ১ নম্বর রোড থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি লস্কর মো: তসলিম বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে চরম প্রতিহিংসা এবং নির্মম দলন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় সকল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও সম্পূর্ণ বেআইনী ও অযৌক্তিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে জেলগেইট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণবিচ্ছিন্ন সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে একযুগেরও অধিককাল ধরে অপশাসন-দুঃশাসন চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে খুন, গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-সহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তার পরিবর্তে নিজেরাই জননিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

দেশে মূল্যপরিস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কথিত সার্চ কমিটির নামে দেশে নতুন তামাশা শুরু হয়েছে। তারা আবারও সাজানো ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। কিন্তু সচেতন জনতা সরকারের সে যড়যন্ত্র কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করেই ছাড়বে। এ সময় তিনি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ ও ইয়াসিন আরাফাতসহ সকল রাজনৈতিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য জিয়াউল হাসান, শুরা সদস্য আব্দুল মতিন খান ও ছাত্রনেতা আব্দুর রহীম প্রমূখ।

Sharing is caring!