একজন সম্মুখ করোনাযোদ্ধা ঝুমুর গল্প

একজন সম্মুখ করোনাযোদ্ধা ঝুমুর গল্প

প্রসূতি মা ও নবজাতকের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সেবিকা হিসেবে দিন-রাত অমানুষিক কষ্ট যে নারীরা স্বীকার করে আসছেন তাদেরকে আমরা মিড ওয়াইফ বা ধাত্রী বলি। করোনা পরিস্থিতিতে কতটা চ্যালেঞ্জ এর মুখে আছেন বাংলাদেশের ধাত্রী সমাজ? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য আমরা মুখোমুখি হই বাংলাদেশ মিড ওয়াইফ সোসাইটির (বিএমএস) ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহফুজা আক্তার ঝুমুর সাথে। সাক্ষাৎকারের চুম্বুক অংশ নাগরিক টিভির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: ঝুমু শুরুতেই জানতে চাই একজন ধাত্রীর কার্যক্রম সম্পর্কে। ধাত্রী হিসেবে আপনাদের কী কী বিষয়ের ওপর জ্ঞান থাকা আবশ্যক?
ঝুমু: একজন ধাত্রীকে অবশ্যই গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের শারীরিক সমস্যাগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল হতে হবে। তাছাড়া আমরা যেটাকে রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ বা বংশবৃদ্ধির স্বাস্থ্যগত বিষয় বলে থাকি সেগুলো সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে। আমাদের সমাজে যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার অভ্যাস নেই। একজন গর্ভবতী নারী বা সন্তান গ্রহণে ইচ্ছুক নারীর তাই এ বিষয়ে অনেক কৌতুহল থাকা স্বাভাবিক। একজন ধাত্রীকে অবশ্যই এই বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে যাতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এড়িয়ে একটি সুস্থ সবল নবজাতকের জন্ম প্রদান করা সম্ভব হয়। তাছাড়া গর্ভ ধারণের আগের এবং পরের দিনগুলোতে মা ও শিশুর যত্ন এবং পরিবার পরিকল্পনার বিষয়েও ধারণা থাকতে হবে। মোটকথা সি সেকশন এ বাচ্চা জন্ম না দিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্মদানে নারীদের সব ধরনের সেবা এবং সহযোগিতা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের ধাত্রী সমাজ।
প্রশ্ন: এ পেশায় কাজ করতে পরিবার থেকে কেমন সহযোগিতা পান?
ঝুমু: পরিবারের সহযোগিতা অবশ্যই খুবই গুরুত্বপৃর্ণ। আমি ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে একজন ধাত্রী হিসেবে কাজ করি। সম্প্রতি আমি কাজে আবার নিযুক্ত হয়েছে একটি লম্বা বিরতির পর, কারণ আমি নিজেও ছয় মাস পূর্বে একটি কন্যা সন্তানের মা হয়েছি। এতদিন আমার নবজাতকের সেবায় ব্যস্ত ছিলাম কিন্তু এখন দেশ ও সমাজের কথা চিন্তা করে আবার কাজে যোগ দিয়েছি।
প্রশ্ন: করোনার ভয়ে এখন অনেকেই এ ধরনের পেশা থেকে বিরত থাকতে চাচ্ছে অথচ আপনি স্বেচ্ছায় আবার কাজে যোগ দিয়েছেন, কেন এমন আগ্রহ হলো?
ঝুমু: আসলে এ ধরনের পেশাতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়। তাছাড়া আমার সন্তান এখনো বুকের দুধ পান করে। আমার বাসা আমার অফিস থেকে কাছে হবার সুবাদে আমি বিরতির সময় বাসায় গিয়ে মেয়েকে বুকের দুধ খাইয়ে আবার কাজে ফিরে আসি। কিন্তু মেয়ের সংস্পর্শে যখনি যাই তখনি আতঙ্কে থাকি যে আমার থেকে কখন না জানি আবার আমার মেয়ে এই ভাইরাস এ আক্রান্ত হয়ে পরে! সম্প্রতি আমার এক সহকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর আমার এই দুশ্চিন্তা আরো বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। যদিও কয়েক দিন আগে আমি কভিড-19 টেস্ট করিয়েছি এবং আমার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
প্রশ্ন: নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে আপনারা কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?
ঝুমু: আমরা নিয়মিত নিজেদের পরিচ্ছন্ন রাখছি। মাস্ক পড়ছি, হাত ধুচ্চি। যেখানে পিপিই সরবরাহ হচ্ছে সেখানে মিড ওয়াইফরা পিপিই পড়ছে। বিএমএস এর পক্ষ থেকে সাধ্যমতো আমাদের মাস্ক, পিপিই ইত্যাদি দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে ছুটি পাচ্ছে না, অনেকে লকডাউন এ আটকা পরে দীর্ঘদিন পরিবারের সাথে দেখা করতে পারছে না। এ সমস্যগুলো সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

Sharing is caring!