হিন্দু পরিবারে হামলাকারী যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার হয়নি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের আমরবুনিয়া গ্রামে হিন্দু পরিবারের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনায় করা মামলায় মূল অভিযুক্ত যুবলীগ ও জামায়াত নেতাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বা‌গেরহাটের জ্যেষ্ঠ বিচারকি হাকিম আদাল‌তের মাধ্যমে বুধবার সাকিব হাওলদার ও সুমন শেখকে কারাগারে পাঠানো হয়।

হমলা-ভাঙচুর মামলায় এখন পর্যন্ত কারাগারে আছেন ১৯ জন।

এ ছাড়া ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবীকে (সা.) অবমাননা করে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় কারাগারে আছেন কৃষক রমনী বিশ্বাসের ছেলে কৌশিক বিশ্বাস।

একটি পুরোনো পোস্টকে কেন্দ্র করে সোমবার কৌশিক বিশ্বাসের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

বাগেরহাট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী পুলিশ পরিদর্শক এস এম আশরাফুল আলম মঙ্গলবার বলেন, কৌশিক তিন বছর ধরে ভারতে আছেন। তিনি সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন কৌশিক। ভারতে থাকার সময় তিনি তার ফেসবুক আইডিতে বিতর্কিত পোস্টটি দেন।

ওই পোস্ট নিয়ে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জিউধরা বাজারে একটি সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে কৌশিক বিশ্বাস ও তার বাবা রমনী বিশ্বাস ক্ষমা চান। এ ধরনের কাজ আর করবেন না এবং তিনি (কৌশিক) কিছুদিন এলাকায় থাকবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন।

তবে আমরবুনিয়া মসজিদের সেক্রেটারি জামায়াত সমর্থক নুরজামাল হাওলাদার, যুবলীগ নেতা পশ্চিম আমরবুনিয়া গ্রামের উজ্জ্বল খান এর বিরোধিতা করেন। এক পর্যায়ে তাদের নেতৃত্বে আসা মিছিল থেকে কৌশিকদের বাড়ি ও পাশের মন্দিরে হামলা হয়।

ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্টের কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আমরবুনিয়া গ্রামের আ. সত্তার হাওলাদার কৌশিক বিশ্বাসের নামে মামলা করেন।

অপর মামলাটি করেন কৌশিকের বাবা রমনী বিশ্বাস। তিনি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ৮০-৯০ জনকে আসামি করে নাশকতার মামলা করেন।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় করা দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি উজ্জ্বল খান ও জামায়াত নেতা নুরজামাল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

Sharing is caring!