১২ বাম নেতার নামে মামলা

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাম জোটের ডাকা হরতালে শাহবাগে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যানার পোড়ানোর অভিযোগে তিনটি ছাত্র সংগঠনের ১২ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শাহবাগ থানায় করা মামলায় ১২ নেতা-কর্মীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু, অন্য অংশের সহসভাপতি অনিক রায়, সহসভাপতি জহরলাল রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল কুম্ভকার, সাধারণ সম্পাদক আদনান আজিজ চৌধুরী, সহসাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু, ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদাত মাহমুদ, ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি) সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ইকবাল কবীর ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়।

মামলার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহফুজুল হক ভূঁইয়া বলেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৮ মার্চ বাম জোটের ডাকা হরতালে আসামিরা বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যানার পুড়িয়ে অবমাননাসহ জনমনে ভীতি সঞ্চার করে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জয়বাংলা জয়োৎসব অনুষ্ঠানের প্রচারের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ওই ব্যানার সেখানে টাঙানো হয়েছিল। আসামিরা মানুষের যাতায়াত ও যান চলাচলে বাধা দিয়ে দিয়ে জননিরাপত্তার ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায় এবং ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাজে বাধা দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ইকবাল কবীর বলেন, ‘আইনি জটিলতা তৈরি করে আমরা যারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ করছি, তাদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। এজাহারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ যা বলা হচ্ছে, তা খুবই অন্যায্য। আমরা সেদিন খুবই শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে অবস্থান করেছি। আর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ একাধিক ব্যক্তির নামে এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করেছে।

Sharing is caring!