মামুনুলের গ্রেফতারে চুপ কেন হেফাজত!

নকীব মাহমুদ, ঢাকা:

অবশেষে অনেক জল্পনা ও কল্পনার পরে গ্রেফতার হলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। ১৮ এপ্রিল রোববার তাতে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে রাতে থাকার জন্য নেয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে। কিন্তু সারাদিন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি হেফাজত। এনিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। কেন হেফাজত হঠাৎ করে চুপ হয়ে গেল? নাকি সরকারের পক্ষ থেকে তারা কোন সবুজ সংকেত পেয়েছেন। তবে হেফাজতের চুপ করে থাকাটা অনেকে কৌশল মনে করছেন।

রোববার মাওলানা মামুনুলকে গ্রেফতারের সময় তার দলীয় কোন কর্মীকে বাধা দিতে দেখা যায়নি। প্রায় দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসার আশপাশে অবস্থান নেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বাধা দিতে পারেন। তবে তেমন কিছু হয়নি। পুলিশকে কোনো বাধা দেয়নি হেফাজত। খুব সহজেই মামুনুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে পুলিশ। যে ঘরে মামুনুলের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে সেটির জানালা ও দরজা দিয়ে মাদরাসার অনেক শিক্ষার্থী ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা পুলিশ ও মামুনুলের কথোপকথন দেখছিলেন। তবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

আজ সারাদিন ঢাকাসহ চট্টগ্রামের কোথাও কোন কর্মসূচি বা মিছিল করেনি হেফাজত। জানা গেছে, প্রত্যেক নেতাকর্মীকে হেফাজত চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলছে, মাওলানা মামুনুল গ্রেফতার হয়েছে, এটা ভাল দিক। তাকে আদালতে দ্রুত জামিন করা যাবে। তখন বিষয়টি চাপা পড়বে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়াও ভোটারবিহীন সরকার যেভাবে হেফাজতের বিরুদ্ধে লেগেছে তাতে
অনেক নেতাকর্মী ভয়ে বাসা থেকেও বের হচ্ছে না।

জানা গেছে, জান্নাত আরা ঝর্নাকে বিয়ে ও রিসোর্ট কাণ্ডের অপরাধে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাকে গ্রেফতারের পেছনে নানা কারণও রয়েছে। রয়েছে আরও পুরনো মামলাও। এসব কিছুকে মাথায় রেখেই ভোটারবিহীন সরকার তাকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাছাড়া মামুনুল সম্প্রতি সরকারের নানা সমালোচনাও করছিল। কিন্তু ভোটারবিহীন সরকার তো জনগনের সমালোচনা কখনোই সহ্য করতে পারেনি আর পারবেও না। এ কারণে তার মুখ বন্ধ করতেই এত আয়োজন। তবে এসব নাটক সাজানো ও স্ক্রিপ রাইটিংয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারাও নলকাঠি নেড়েছেন। তারা বাংলাদেশের মাটিতে নানা ছদ্মবেশে প্রবেশ করে দিনরাত তাকে নজরদারীও করেছে।

হেফাজতের নেতারা বলছেন, এখন ভারতের মাথা ব্যাথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাওলানারা। তারা মনে করছে, হুজুরদের দমন করতে পারলেই তারা তাদের পছন্দসই ভোটারবিহীন সরকারের শাসনকে দীর্ঘ করে নানা সুবিধা আদায় করত পারবে। এ লক্ষ্যে তারা কাজও করছে। এই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই মামুনুলকে সরকারকে দিয়ে গ্রেফতার করাতে বাধ্য করেছে।

তারা আরও বলছেন, মামুনুলের কাণ্ডে তারা বেশ লজ্জিত । এ কারণে তাকে গ্রেফতারের গুজব ওঠার পর থেকে চুপ হয়ে গেছে হেফাজতে ইসলামী। তারা চাইছে বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত থাক। সেটার ফোটা যেনো দলের মাঝে না এসে পড়ে। এ কারণে মাওলানা মামুনুল হক কাণ্ডের পর থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে নানাভাবে এড়িয়ে গেছেন। মামুনুল অনেকের কাছে আশ্রয় চেয়েও পাননি। এমনকি কোথাও তার ঠাঁইও হয়নি। অবশেষে তারই প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসা থেকে রোববার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, মাওলানা মামুনুল শুধু হেফাজত নন, তার স্ত্রী ও পরিবারের কারও কাছেই আর ফিরতে পারেনি। সেদিনের পর থেকে তিনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশের কাছে তথ্য ছিল তিনি কোথায় যাচ্ছেন আর কি করছেন। সব নজরদারী হাতের মুঠোয় আসার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভোটারবিহীন সরকারের অনুগত পুলিশ সদস্য, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তেজগাঁও জোনের দুর্নীতিবাজ ডিসি হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিয়ে ক্রেডিট নিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। যদিও এই ডিসি হারুন অন্য কোন গ্রেফতারের বিষয়ে তেমন তথ্য দিতে চান না সাংবাদিকদের। এই হারুণের বিরুদ্ধে কানাডায় টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আমেরিকা ও কানাডা সরকার তার প্রায় ১২শত কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা গেছে।

হারুন-অর-রশিদ বলেন, মামুনুলের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, থানায় হামলা,০ রেজিস্ট্রার অফিসে হামলা ভাঙচুরসহ অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রেখেছিলাম, পাশাপাশি এসব মামলার তদন্ত করছিলাম। তদন্তে তার সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

#এনএম

Sharing is caring!