সিলেটে এমসি কলেজে ধর্ষণের প্রতিবাদে প্রেস ক্লাব থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের পদযাত্রা অনুষ্ঠিত

পদযাত্রা শুরুর প্রাক্কালে প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য রাখছেন নুরুল হক নূর

ক্রসফায়ারকে সরকার ক্ষমতায় থাকার একটি পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা বলেছেন যারা ধর্ষণের সাথে জড়িতে তাদের আমরা ক্রসফায়ার দিতে চাই। আমি বলবো, আপনাদের মতলব ভালো না। ক্রসফায়ারের নাম করে আপনারা এ পর্যন্ত তিন হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই একদম নিরাপরাধ নিরীহ মানুষ। মূলত এই ক্রসফায়ারকে ক্ষমতায় থাকার একটি পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত পদযাত্রা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে এসব কথা বলেন।

নুর বলেন, একটার পর একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, সর্বশেষ সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনা ঘটলো। কিন্তু ঘটনাগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না। আমরা খুব লজ্জিত হই যখন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ধর্ষণের ঘটনা কোন দেশে না ঘটে। এসব কথা বলে বাংলাদেশে ধর্ষণের বৈধতা দিতে চায়।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বলেছিলো, স্বাধীনতা বিরোধী যারা তারা ছাড়া অন্য কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হয় তবে তাদের বিচারের দাবিতে ছাত্রলীগ মাঠে থাকবে। আমার প্রশ্ন আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশে কোনো স্বাধীনতা বিরোধী আছে? তাহলে স্বাধীনতা বিরোধী ট্যাগ দিয়ে যারা ধর্ষণকে বৈধতা দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। না হলে আমাদের মা-বোনেরা এদেশে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা পাবে না।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, আজকে এখানে আপনারা যারা তরুণরা দাঁড়িয়ে আছেন তারা একদিন বাবা হবেন। এসব ধর্ষকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে আপনার সন্তানরাও নিরাপদ থাকবে না।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন কিছুদিন আগে আইন ও শালিস কেন্দ্র বলেছে গত আট মাসে ৮৮৯ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ১১১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই যে ১১১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলো কয়টি ঘটনার বিচার হয়েছে?

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিচারের দীর্ঘ সূত্রতা। যেখানে আইনে বলা আছে ৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার করতে হবে। কিন্তু এই ধর্ষণের বিচার হতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

নুর বলেন, যেই বিচার ব্যবস্থা একটি ঘটনার বিচার করতে দীর্ঘ সময় নেয়, সেই বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই। যে বিচার ব্যবস্থা মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারে না, সেই বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমরা ঘৃনা প্রকাশ করি। যেই বিচার বিভাগ একজন প্রধান বিচারপতিকে রক্ষা করতে পারেনা তাদের প্রতি জনগণের আস্থা নেই।

তিনি বলেন, টানা ১৪ বছর এই সরকার ক্ষমতায় আছে জনগণ পাচ্ছে খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন। জনগণ সুফল পায়নি সুফল পেয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লুটেরারা।

এরপর ভিপি নুরের নেতৃত্বে প্রতিবাদী পদযাত্রা নিয়ে মৎসভবন, শাহাবাগ, টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এসময় পদযাত্রায় থাকা সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা বিভিন্ন ধরনের সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়।

Sharing is caring!