নাগরিক টিভি Exclusive : মোস্তফা ফিরোজের নারী কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতির সাতকাহন

মোস্তফা ফিরোজ
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ডেস্ক

জনপ্রিয় স্যাটালাইট চ্যানেল বাংলাভিশনের সদ্য চাকরিচ্যুত সিনিয়র সাংবাদিক এবং হেড অফ নিউজ মোস্তফা ফিরোজের আবেগময় ফেইসবুক ষ্ট্যাটাস এ সাংবাদিক সমাজ এবং সচেতন দর্শক মহলে সম্প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মোস্তফা ফিরোজের দাবি অনুযায়ী তাকে অন্যায়ভাবে বাংলাভিশন থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন মরহুম মেয়র এবং বাংলাভিশনের মালিকপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেনসহ বাংলাভিশনের পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান কর্তাব্যক্তিদের। তবে নাগরিক টিভির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধানে পাওয়া গিয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে মোস্তফা ফিরোজের নারী কেলেঙ্কারিসহ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন সংক্রান্ত নানা তথ্য। বহুদিন ধরে বাংলাভিশন কতৃপক্ষ তার এসব অপকর্ম জেনেও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে সম্প্রতি ‘উত্তর পাড়ার’ নির্দেশে তাকে চাকরি থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় বাংলাভিশন কতৃপক্ষ, তেমনটিই জানিয়েছেন বাংলাভিশনে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক।

টাকার বিনিময়ে অতিথি নির্বাচন: মোস্তফা ফিরোজ প্রবাসীদের অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন বাংলাভিশনে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী দর্শকদের থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে চাঁদা নিয়ে তার বিনিময়ে আমন্ত্রণ জানাতেন মোস্তফা ফিরোজ। টাকা ছাড়া তার অনুষ্ঠানে কোনো অপরিচিত মুখ আমন্ত্রণই পেতো না। তাছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী টক্ শোগুলোতে শাহেদ এর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাতেন মোস্তফা ফিরোজ। শাহেদকে বাংলাভিশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোস্তফা ফিরোজ। প্রতারক শাহেদের সাথে তার ছিল বিরাট সক্ষতা।

যশোরে মোস্তফা ফিরোজের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি

সাহেদের থেকে কত টাকা নিয়ে তিনি তার উত্তরাতে ৬ কোটি টাকার বাড়ির কাজ সম্পন্ন করেছেন এ প্রশ্ন করেছেন তার ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ যারা সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।কলা বাগানে কিনেছেন ফ্ল্যাট, যশোরে করেছেন ডুপেক্স বাড়ি। কোথায় পেলেন এত টাকা?

উত্তরাতে মোস্তফা ফিরোজের বাড়ি

এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি কি দিতে পারবেন ? তারপরও তিনি নিজেকে দাবি করেন গরীব। দাবি করেন অফিস সহকারী ইকবালের কাছে টাকা ধার করে চলেন! ফেইসবুক এ নিজের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে দেয়া তার স্ট্যাটাসটি যে নিছক ভণ্ডামি সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

উত্তরাতে মোস্তফা ফিরোজের বিলাসবহুল বাড়ির সম্মুখ পথ


এসিআই কোম্পানির মালিকানাধীন স্বপ্ন সুপার শপ যখন মরা মুরগি জালিয়াতি করে ধরা খেলো বাংলাভিশনের এক রিপোর্টার এর কাছে, তখন সেই সংবাদটি চেপে যান মোস্তফা ফিরোজ। এভাবে নানা সময়ে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির খবর প্রকাশে মোস্তফা ফিরোজ বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তার সহকর্মীদের কাছে। এসব বাঁধার নেপথ্যে মোস্তফা ফিরোজ সেসব কোম্পানির থেকে মোটা অংকের সুবিধা আদায় করে প্রবাসে ভ্রমণ , কেনাকাটা সহ বিলাসবহুল জীবন যাপনে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

নারী কেলেঙ্কারির মহানায়ক: মোস্তফা ফিরোজ তার অফিস সহকারী ইকবালের স্ত্রীকে গাজীপুর নিয়ে রঙ্গমঞ্চ করেছেন । শুধু তাই নয় সহকারী প্রযোজক রিয়াজ রনির প্রথম স্ত্রীর সাথেও করেছেন শারিরিক সর্স্পক। অফিসের অনেক সহকর্মীর বাসায়ও যেতেন নারী নিয়ে।মোস্তফা ফিরোজের ব্যক্তিগত গাড়িচালক তার প্রতিটি নারীঘটিত ঘটনার নীরব সাক্ষী। সুন্দরি রমনি নিয়ে থাইল্যান্ড, মালেশিয়া ও সিঙ্গাপুরে যেতেন হরহামেশা। প্রায় সবকয়টি টিভি চ্যানেলের নিউজ প্রেজেন্টারদের কফির দাওয়াত দিতেন তিনি। সুন্দরি নারী নিয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে স্বয়ং বাংলাভিশনের সাবেক সিনিয়র নিউজ এডিটর মাসুদ কামালকে চাকরিচ্যুত করেন মোস্তফা ফিরোজ। নিজ হাতে চাকরি খেয়েছেন সিনিয়র প্রযোজক-শিব শঙ্করেরও। এখানে শেষ নয় , বাংলাভিশনের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের সাবেক সুন্দরি কলিগ ফারিয়া চৈতি নামে আরেক সহকর্মীর সাথে প্রতি রাতে ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটে শারিরিক সর্স্পক গড়ে তোলেন মোস্তফা ফিরোজ ও তার বন্ধু সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। ৬ কোটি টাকা খরচ করে বিলাস বহুল বাড়ির একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে গর্ভবতী করা ফারিয়া চৈতি ম্যানেজ করেন তার আরেক বন্ধুকে দিয়ে। এর আগে সু-কৌশলে তার অফিস সহকর্মী সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ঈষিকা আজিজকে চাকরিচ্যুত করেন মোস্তফা ফিরোজ। এর আগে, আরেক নারী প্রেজেন্টারের সাথে শারিরিক সর্স্পক করতে না পারায় কৌশলে চাকরিচ্যুত করেন তানবির নামে আরেক ছেলে প্রেজেন্টারকে। অনেক চেষ্টা করেও ব্যথ হন ফাঁদে ফেলে আরেক প্রেজেন্টারের সাথে শারিরিক সর্স্পক করতে গিয়ে।

সিরাজুম মনিরা নামে আরেক প্রেজেন্টারের সাথে ও শারীরিক সর্স্পক করেন মোস্তফা ফিরোজ। পরে কৌশলে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন তিনি।

তার যৌন লালসা থেকে বাঁচতে অনেক প্রেজেন্টার চাকরি ছেড়েও দিয়েছেন। তারপরও যৌন লালসার ফাঁদ থেকে সরে আসেননি মোস্তফা ফিরোজ। অনেক প্রেজেন্টার লজ্জা, ভয় এবং সমাজিক অবস্থা চিন্তা করে মুখ খুলছেন না। নিউজ প্রেজেন্টার ও টিভিতে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক মেয়ের সাথে শারিরিক সর্ম্পকও করেন সাংবাদিক সমাজের আয়না মোস্তফা ফিরোজ। আবার অনেককে প্রেজেন্টার বানিয়ে ফাঁদে ফেলেও শারিরিক সর্ম্পক করেন তিনি। শুধু তাই নয় দেশের বাহিরেও প্রেজেন্টারদের নিয়ে যেতে তিনি। নিউজ প্রেজেন্টারদের জম্মদিনে পাঠাতেন নামীদামী ব্যান্ডের টিভি, শাড়ী, থ্রীপিজ, মোবাইল ফোন। কোন কোন প্রেজেন্টারের বাসায় গিয়েও রাত কাটাতেন । মেয়ের বয়সি সুন্দরী নারী প্রেজেন্টারের হাত ধরে রাজধানীর নামীদামী শপিংমলে নিয়ে কেনাকাটা করে দেন তিনি। বিশেষ করে বসুন্ধরা সিটিতে দেখা যায় এমন দৃশ্য।

এত টাকা কোথায় পেল নিজেকে গরীব দাবি করা বেকার সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ? অফিসের অনেক সহকর্মীর তার এসব অসভ্যতা জানতেন, তাদেরও চাকরি খাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সহকর্মীরদের চাকরিচ্যুত করার তালিক ও করেন মোস্তফা ফিরোজ। টার্গেট ছিল যারা তার কু-কীর্তি জানতেন তারা । ঈদ বা বড় কোন উৎসব আসলে সুন্দরী প্রেজেন্টারদের গিফট কিনতে কিনতে রীতিমত হয়রান হয়ে যেতেন তিনি। কেনাকাটা শেষে প্যাকেট করে তার অফিস সহকারী ইকবালকে দিয়ে প্রেজেন্টারদের বাসায় পৌছে দিতেন গিফটগুলো। অনেকেরটা আবার অফিস থেকেই নিজ হাতেই তুলে দিতেন মোস্তফা ফিরোজ। সুন্দরী নারী প্রেজেন্টার নিয়ে বনানী ফোর সিক্স নামে রেষ্টুরেন্টে গিয়ে নিয়মিত শিশা খাওয়ায় ব্যস্ত থাকেন মোস্তফা ফিরোজ।

শুধু তাই নয় মোস্তফা ফিরোজ দিপু রুমা নামে এক মেয়েকে তার নিজের প্রতিষ্ঠান ভয়েস বাংলায় চাকরি দেন। পরে প্রলোভন দেখিয়ে শারিরিক সর্স্পক গড়ে তোলেন। তার বাসা ভাড়া দেন সাংবাদিক ফিরোজ। পরে সু- কৌশলে বাংলাভিশনে নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে চাকরি দেন। তারপর থেকেই রুমাকে স্ত্রী মত ব্যবহার করেন। প্রেজেন্টার রুমা ও মোস্তফা ফিরোজকে প্রায়ই এক সাথে ঘুরাঘুরি, কেনাকাটা একসাথে থাকা সবই চলছে সমান তালে। এছাড়া সহকারী প্রযোজক মিলন মাহমুদের রবির স্ত্রী সাথেও নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন মোস্তফা ফিরোজ।

পারিবারিক জীবনে ব্যর্থ মোস্তফা ফিরোজ: মোস্তফা ফিরোজ জাতিকে জ্ঞান দিলেও নিজের পরিবার ও সন্তানকে আগলে রাখতে পারেননি। তার মেয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি পড়তেন। সেখানে বন্ধুরদের সাথে ইয়াবা সেবন করতেন নিয়মিত। মেয়ের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরালও সামাজিক মাধ্যমে। এমনি কি মোস্তফা ফিরোজের সুন্দরী কন্যার সেক্স ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে।মাদকাসক্ত মেয়ের বয়ফ্রেন্ড মোস্তফা ফিরোজকে বহুবার হুমকি দিয়েছেন। তারপর এক সিনিয়র রির্পোটারকে দিয়ে কোন রকমে ঘটনা ধামাচাপা দেন মোস্তফা ফিরোজ।মোস্তফা ফিরোজ ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এক হিন্দু নারীকে। কিন্তু ভালোবাসার কাছে ধর্মীয় বাঁধা বা সামাজিক দুরুত্ব সবকিছু পরাজিত হতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সুখের সংসারে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় মোস্তফা ফিরোজের একাধিক নারীর প্রতি ভয়ঙ্কর আসক্তি। তার এসব পরকীয়া সম্পর্কে তার স্ত্রীও অবগত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

পাদটীকা: চটকদার সংবাদ করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভাইরাল হতে চায় না নাগরিক সংবাদ। নাগরিক টিভির সম্পাদকীয় নীতির সাথে এ ধরণের সংবাদ না গেলেও জনস্বার্থে আমরা এ সংবাদটি প্রকাশে বাধ্য হলাম। আমাদের অনুসন্ধানের দ্বারা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি মোস্তফা ফিরোজের দুরুভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য সম্পর্কে। তিনি চাচ্ছেন বাংলাভিশন সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে একুশে টিভি র মতো ভাগ্য বরণ করুক। এর মাধ্যমে তিনি চাচ্ছেন বাংলাভিশনের বর্তমান পরিচালনাপরিষদ বিলুপ্ত হয়ে তার মনের বাসনা পূরণ করতে। কিন্তু বাংলাভিশনের সৎ এবং নিষ্ঠাবান কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশ এবং জাতির স্বার্থে আমরা এ কঠিন সত্য উন্মোচন করলাম। মোস্তফা ফিরোজদের মতো ভন্ড এবং মুখোশধারীদের আসল চরিত্র উন্মোচনে নাগরিক টিভির এ ধরণের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রিপোর্টার এর বক্তব্য: রিপোর্টটি প্রকাশের পর থেকে এর পক্ষে এবং বিপক্ষে নানা ধরণের মন্তব্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। পাঠকদের মন্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা পূর্বে আপলোডকৃত ভিক্টিম সংবাদপাঠিকাদের ছবিগুলো এই সংবাদটি থেকে সরিয়ে নিলাম। তবে আমরা আমাদের এই রিপোর্টটির ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে চাই এখানে মনগড়া, ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু লেখা হয় নি। বরং মোস্তফা ফিরোজের দুর্নীতির এবং নারীঘটিত কেলেঙ্কারির আরো বেশ কিছু তথ্য এবং প্রমান আমাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও সেগুলো আমরা এখানে প্রকাশ করিনি। যতুটুকু আমরা প্রকাশ করেছি তাতেই কেউ কেউ বলছেন আমরা সাংবাদিকতার নীতি মানি নি , কেউ কেউ বলছেন আমরা টাকা খেয়েছি এ ধরণের রিপোর্ট করার জন্য! কেউ কেউ বলছেন আমরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে মোস্তফা ফিরোজ দিপুকে মানহানি করেছি। আমরা নিঃসঙ্কোচে বলতে চাই নাগরিক টিভি কারো দয়াতে পরিচালিত হয় না। আমরা কারো কাছে দায়বদ্ধ নই। আমাদের দায় আমাদের বিবেকের কাছে। নিজেদের বিবেকের প্রতি স্বচ্ছ থেকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি রিপোর্ট এর সত্যতা যাচাই করে তবেই প্রকাশ করে থাকি।

Sharing is caring!