মিরকাদিম মেয়রের বাসায় বিস্ফোরণে আহত ১৩

মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে পৌর মেয়রের বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেয়র ও কাউন্সিলরসহ ১৩ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা বোমা বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, গ্যাসের লিকেজ থেকেও তা হতে পারে।

দগ্ধরা হলেন-মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র আবদুস সালাম (৫৫), তার স্ত্রী কানন বেগম (৪০), প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা (৪৫) ও আওলাদ হোসেন (৪২), তাজুল ইসলাম (২৫), মাইনুদ্দিন (৪৪), মোশারফ হোসেন (৪২), শ্যামল দাস (৪৫), পান্না মিয়া (৫০), কালু মিয়া (৪০), ইদ্রিস আলী (৫০), মো. সোহেল (৫২) ও দ্বীন ইসলাম (৪০)। অন্যদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে মেয়রের বাস ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে মেয়রের সঙ্গে আলাপ করছিলাম পৌর কাউন্সিলরসহ অন্যান্যরা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাঁচ ফেঁটে চুরমার হয়ে গেছে। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ৪ জন কাউন্সিলরসহ অন্তত ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাসের লাইনের লিক থেকে ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে থাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে সময় মেয়ের স্ত্রী রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গিয়েছিল বলে জানা যায়।

বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তি, ছবি: সংগৃহিত

আহত পৌর প্যানেল মেয়র আওলাদ হোসেনের চাচাতো ভাই সেন্টু মিয়া বলেন, রাত আটটার দিকে পৌরসভার সব কাউন্সিলর ও স্টাফ নিয়ে নিজ বাসভবনে সভায় বসেন পৌর মেয়র আবদুস সালাম। সেখানে বিগত সময়ের বিভিন্ন কাজের ফাইলপত্র নিয়ে কথা বলছিলেন মেয়র ও কাউন্সিলররা। সভার একপর্যায়ে বোমার বিকট শব্দে মেয়রের বাসভবনে আগুন জ্বলে ওঠে।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, ১৩ জন রোগী হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের শরীরের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। এক নারীর অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব খান বলেন, সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার কোনো আলামত পাননি। তারপরও বোমা বিশেষজ্ঞ দল ডাকা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!