মুনিয়া হত্যা মামলায় আনভীরের বান্ধবি গ্রেপ্তার

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ছয় নাম্বার আসামী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বান্ধবি সাইফা রহমান মিমকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। যদিও এই মামলার এক নাম্বার আসামী সায়েম সোবহান আনভীর ঠিকই জনসমক্ষে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেপ্তার তো দূরে থাক একবার ডেকেও জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে না। যেন এক অজানার শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে আছে সব বাহিনী।

মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি জানান, রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সকালে তাকে পিবিআইতে আনা হয়। এর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলা দায়েয়ের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। কিছুদিন আগে দেশে ফেরেন। মুনিয়ার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আসামিকে রিমান্ডে আনা হাতে পারে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্ত পিবিআই কর্মকর্তারা।

মুনিয়ার ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।

ওই আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাফরোজা পারভীন মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে পরের দিন গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) (২)/৩০ ধারা এবং ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি (নম্বর-৫) রেকর্ড হয়। এরপর তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়।

কুমিল্লার বাসিন্দা ঢাকার এক কলেজের ছাত্রী মুনিয়াকে গত বছর ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তার বোন তানিয়া কুমিল্লা থেকে এসে সেদিনই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেছিলেন।

সেই মামলায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বসুন্ধরা এমডি আনভীর ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাকে ওই বাসায় রেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দেওয়ায় মুনিয়া আত্মহত্যা করেন।

তদন্ত শেষে গত বছর ২২ জুলাই পুলিশ জানায়, এ মামলায় আনভীরের কোনো ‘দোষ পাওয়া’ যায়নি।

মামলায় আনভীর, মিম ও জেলে আটক মডেল পিয়াসা ছাড়াও আসামি করা হয় আনভীরের বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, মা আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাকে। এছাড়া মুনিয়ার বাড়িওয়ালা ইব্রাহিম আহমেদ রিপন ও তার স্ত্রী শারমিনকেও আসামি করা হয়।

তানিয়া তার মামলায় আনভীরকে আসামি করলেও মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ দাবি করেন, তার বোন মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাতে ‘জড়িত’ শারুন।

সেই অভিযোগ অস্বীকারের পাশাপাশি শারুন দাবি করেন, তার সাবেক স্ত্রী মিমের সঙ্গে তানভীরের সম্পর্ক গড়ে ওঠার খবর মুনিয়া গত বছর তাকে জানিয়েছিলেন।

Sharing is caring!