নাগরিক ঐক্যের জনসভায় পুলিশ পাহারায় হামলা

রাজধানীর ভাটারায় নাগরিক ঐক্যের পূর্বঘোষিত জনসভায় পুলিশ পাহারায় হামলা করেছে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। এসময় মঞ্চ ভেঙ্গে মান্না-রবসহ দলটির নাগরিক ঐক্যের নেতাদের লাঞ্ছিত করা হয়। এতে ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে সংগঠনটির।

নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীরা জানান, বিকালে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ূম ও নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার সভাস্থলে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। তখন নেতারা ভাটারার একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান নেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নেতাদের ওপর হামলা করেন। তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এর প্রতিবাদে রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কর্মসূচির জন্য পুলিশের মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া জনসভাকে কেন্দ্র করে ভাটারাসহ পুরো রাজধানীজুড়ে পোস্টার লাগানো, লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হয়। অথচ জনসভার দিন সকালে পুলিশ মঞ্চ ভেঙে দেয় এবং নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক সজীব মারাত্মকভাবে আহত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া আরও ১০-১২ জনকে আহত করা হয়।

তিনি বলেন, নাগরিক ঐক্যের জনসভা ছিল মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে। এই কর্মসূচি পণ্ড করতে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী হামলা প্রমাণ করে তারা একুশের চেতনা তথা স্বাধীনতার মূল চেতনার পরিপন্থী। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দাবিতে নাগরিক ঐক্যের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা, হামলা, মঞ্চ ভেঙে ফেলা এবং নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীদের আহত করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নাগরিক ঐক্যের শান্তিপূর্ণ জনসভার ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা বর্বরতা ও ন্যক্কারজনক কাপুরুষতা। এই হামলা নিঃসন্দেহে পূর্বপরিকল্পিত। সভা-সমাবেশ ইত্যাদি সংবিধান স্বীকৃত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু আওয়ামী সরকার নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নে এতটাই বেসামাল যে, তারা সংবিধান স্বীকৃত এই অধিকার মেনে নিতে চায় না। বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে সারা দেশকেই রক্তারক্তি, হানাহানি ও অরাজকতার অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ সবসময় অজানা আশঙ্কায় জানমাল, সহায়-সম্পদ নিয়ে অসহায়ের মতো দিনযাপন করছে। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের আশকারা দিয়ে বিরোধী মত, বিশ্বাসের মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে।

Sharing is caring!