ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে প্রথম মৃত্যু !!

দেশে ভয়াবহ ভারতীয় ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনদিন আগে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে মারা যান তিনি। মঙ্গলবার (২৪ মে) মাইক্রোবায়োলজির প্রাথমিক পরীক্ষায় মারা যাওয়া ব্যক্তির নমুনায় মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আরও একজন উপসর্গ নিয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৫ মে) সকালে এ বিষয়ে বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তি বাদে বাকী একজনেরও মিউকরমাইকোসিসের সব ধরনের উপসর্গ আছে। কিন্তু এখনও কালচার রিপোর্ট পাইনি। তারপরও আমরা তার চিকিৎসা শুরু করে দিয়েছি। 

তিনি বলেন, কোভিড যতটা ছোঁয়াচে, এটি কিন্তু ছোঁয়াচে নয়। 

এর আগে রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে গত ৮ মে ৪৫ বছর বয়সী এক রোগীর এবং পরে গত ২৩ মে ৬০ বছর বয়সী আরেক রোগীর দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত: কিছুই জানে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর!

এ বিষয়ে গত সোমবার (২৪ মে) বারডেম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লাভলি বাড়ৈ গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের ল্যাবে দুইজনের শরীরে মিউকোরমাইকোসিস শনাক্ত হয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। বারডেমের ল্যাবরেটরিতে করোনা রোগীর শরীরের এবারই প্রথম রোগটি শনাক্ত হয়। 

ডা. লাভলি বাড়ৈ জানান, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে অবস্থা গুরুতর হতে পারে। তাই তাদের সতর্কভাবে চিকিৎসা দিতে হয়।

এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ শনাক্ত  হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। 

দেশে প্রথম ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ শনাক্ত

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হওয়ার কোনো তথ্য আমরা এখনো পাইনি। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের বিশেষজ্ঞরাও করণীয় নির্ধারণ করছেন। শিগগিরই রোগটির চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা গাইডলাইন দেব।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছত্রাক–জাতীয় এক রোগ, যা প্রধানত কোভিড রোগীদের মধ্যে ছড়াচ্ছে। মাত্রা ছাড়া স্টেরয়েড নিলে, বেশি দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলে অথবা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এই ছত্রাকের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি। শাকসবজি, মাটি, ফল, একই মাস্ক প্রতিদিন পরা থেকে এই রোগ ছড়ায় বলে সতর্ক করা হয়েছে। 

উপসর্গ হলো জ্বর, মাথাব্যথা, নাক ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া, দৃষ্টি কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, রক্তবমি ইত্যাদি।

Sharing is caring!