যুক্তরাষ্ট্রে এফটিসির চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লিনা

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নারী লিনা খান।

অ্যামাজন ডটকম, অ্যাপল, ফেসবুক ও অ্যালফাবেটের মতো প্রভাবশালী বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ৩২ বছর বয়সী এই নারী।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মঙ্গলবার নিয়োগ দিয়েছেন লিনা খানকে। এর আগে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট তার নিয়োগ চূড়ান্ত করে। বাজারব্যবস্থায় বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া কর্তৃত্ব আরোপের তীব্র বিরোধী লিনা খান। অর্থনৈতিক খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব বিস্তার খর্ব করতে চাওয়া প্রগতিশীলরা লিনার নিয়োগকে বিজয় হিসেবে দেখছেন।

কলম্বিয়া ল’ স্কুলে অধ্যাপনা করেছেন লিনা খান। এর আগে কাজ করেছেন হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির অ্যান্টিট্রাস্ট (একচেটিয়াত্ববিরোধী) প্যানেলের সদস্য হিসেবে। কীভাবে অ্যামাজন, অ্যাপল, ফেসবুক ও অ্যালফাবেট বাজারে আধিপত্য বজায় রাখে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন তিনি।

পরামর্শক সংস্থা পাবলিক সিটিজেন এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও সিনেটের এ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এর মাধ্যমে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব বিস্তারবিষয়ক সংকটকে স্বীকার করে নেয়া হলো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা ও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য।

এরই মধ্যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এফটিসি। অনুসন্ধান শুরু করেছে অ্যামাজন ডটকমের বিরুদ্ধে। গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (আইটিআইএফ)।

লিনা খানকে এফটিসি প্রধান হিসেবে নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় আইটিআইএফ বলছে, এটি মানুষের অনাস্থাবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও উসকে দেবে। এতে লাভবান হবে বিদেশি ও কম মেধাবী প্রতিদ্বন্দ্বীরা! ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও মেধাবীরা। এ বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি অ্যাপল ও ফেসবুক। কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে গুগল ও অ্যামাজন ডটকম।

এর আগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরেক কট্টর সমালোচক টিম উকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন বাইডেন।

Sharing is caring!