মার্কেট খুললেও ক্রেতা নেই

চারদিন বন্ধ থাকার পর আবারও খুলেছে মার্কেট ও শপিংমল। কিন্তু প্রথম দিনে তেমন ক্রেতার দেখা ছিল না। ফলে সারাদিন বিক্রি বিহীন সময় কেটেছে দোকানীদের। এদিকে গতকাল গণপরিবহণ চললেও সরকারি ছুটির দিন থাকায় ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া তেমন মানুষ মার্কেটগুলোতে ছুটেনি। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ছাড়া মার্কেটগুলোতে মানুষের তেমন ভীড়ও লক্ষ্য করা যায়নি ।

দেশে এখনো সাত দিনের বিধিনিষেধের সীমা শেষ হয়নি। তার মধ্যেই খুলেছে গণপরিবহন ও শপিংমল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখা যাবে। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। কিন্তু গতকাল মার্কেটগুলোতে তেমন স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা কোন উপকরণ দেখা যায়নি। অনেক মার্কেটের সামনে করোনা জীবানু থেকে পরিত্রাণে বিশেষ সুরক্ষা গেট রাখা হলেও সেগুলোতে তেমন সুরক্ষাকারী উপকরণ ছিল না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই দোকানী থেকে শুরু করে ক্রেতারা ব্যবহার করেছেন। অনেক দোকানী দুই একজন ক্রেতার দেখা পেলেও তারা কাপড় কেনেননি। ফলে দোকানিরা অলস সময় পার করছেন।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে জুমার নামাজের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত হল্যান্ড সেন্টার শপিং কমপ্লেক্স, বিটিআই প্রিমিয়ার প্লাজা, সুবাস্তু, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট ও বঙ্গমার্কেট ও কয়েকটি শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, দোকান খুলেছে ঠিকই কিন্তু ক্রেতা নেই। প্রতিটি দোকানের কাছে গেলেই কর্মচারীরা হাকডাক করছেন। অনেকে ক্রেতা ভেবে হাত ধরে দোকানেও নিয়ে যাচ্ছেন।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী আলী আহমেদ বলেন, আগে শুক্রবার ভীড়ে বিক্রির জন্য তাল পেতাম না। আর আজ (গতকাল) কোন ক্রেতার দেখাই নাই। মনে হচ্ছে, দেশ পুরাই লকডাউন শুধু ব্যবসায়ীরা ছাড়া। তার সঙ্গে কথার জের ধরে সুমন নামে এক কাপড় বিক্রেতা বলেন, বন্ধের দিন। ভাবছি বিক্রিবাট্টা হবে কিন্তু কোন নারী বা ভাবীও কাপড় কিনবার আসলো না। হল্যান্ড সেন্টার শপিং কমপ্লেক্সের কাপড়ের দোকানি আবু ইউসুফ বলেন, এতদিন পর মার্কেট খুললো। ভাবছিলাম, বিক্রি ভালই হবে। কিন্তু কই ক্রেতাই তো পাই না।

বঙ্গমার্কেটের ব্যবসায়ী রুবেল জানান, শুক্রবার হলেই মাইনষেরে মাল (কাপড়) দিবার হুশ পাই না। আর আইজকা দেহি ক্রেতা খুঁইজ্যা পাইতাছি না। অনেকে আইতাছে কিনতু তাগো কেনাকাটার আগ্রহ নাই। দোকানীরা বলছেন, এই অবস্থায় প্রথম দিন তাদের দোকানে থাকা কর্মচারী, খাবার, বিদ্যুৎ বাবদ কোন আয়ই হয়নি। উল্টো একদিন তারা ক্ষতির সম্মুখীন হলেন। করোনা লকডাউন তাদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে।

আরেক দোকানি হাশেম আলী বলেন, দোকান খুলেছি ঠিকই কিন্তু কাস্টমারের আনাগোনা, বেচা-বিক্রি এখনও শুরু হয়নি। এই মার্কেটের কোনো দোকানিই এখনও বনি (প্রথম বিক্রি) করতে পারেনি। দোকান এতদিন বন্ধ ছিল কিন্তু আমাদের তো দোকানের ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ঠিকই দিতে হয়েছে। এখন এসে ব্যবসা করার কোনো উপায় দেখছি না। সামনে ঈদ আর ঈদেই পুরো বছরের ব্যবসা করে দোকানিরা। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। করোনাকালে মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটাই করে না। যে কারণে আজ সকালে দোকান খুললেও কোনো কাস্টমার নেই। মাঝখান থেকে আমরা দোকানি, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বিপদে পড়ে আছি। পারছি না ব্যবসা ছাড়তে, না পারছি নতুন মালামাল কিনে ব্যবসা বাড়াতে। আল্লাহ জানে সামনে আমাদের জন্য আর কেমন বিপদ অপেক্ষা করছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অনেক ব্যবসায়ী ধ্বংস হয়ে যাবে। ব্যবসায়ী ওয়াসিম ফারুক বলেন, মার্কেট খুললো। সকলে আশা করছিল ব্যবসা চাঙ্গা হবে। সামনে রমজান। অনেকে কেনাকাটা করবে। কিন্তু পুরাই উল্টা। একটা দিন আয় শূণ্যভাবে কাটলো। তবে তিনি আশাবাদী চলতি সপ্তাহে ক্রেতা মার্কেটমুখী হবে। ব্যবসা আবারও চাঙ্গা হবে।

জানা গেছে, করোনা প্রাদূর্ভাব বাড়ার কারণে ক্রেতারাও ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন। যারা বের হচ্ছেন তারা একান্ত প্রয়োজনে। বেশির ভাগ মানুষ এখন চিন্তায় পড়েছে দেশ আবারও লকডাউন পড়লে তারা খাবেন কি, হাতে টাকা না থাকলেও খরচ করবেন কি। এসব কারণে অনেকে মাসের শুরুতে কোন ব্যয় বৃদ্ধিও করতে চাচ্ছেন না। তবে দুই একজন ব্যতিক্রম। তাদের একজন নাঈম আহমেদ। তিনি গতকাল তার ছোট্ট বাচ্চার কাপড় কেনার জন্যই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তার ভাষ্য, প্রয়োজন ছাড়া বের হতাম না। তাছাড়া বাচ্চাটার কাপড়ও নেয়া প্রয়োজন। এই কারণে বের হওয়া। মানুষ মুলত নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখতে চায়, তাই এখন শপিংয়ে আসতে চাইছে না বলে মনে করেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এ সময়সীমা মেনে শপিংমল ও দোকানপাট খোলা যাবে। শিগগিরই সরকারের তরফ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর আগে ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এতে গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট, বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিনে শর্ত সাপেক্ষে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চালু হয়েছে। এরপর গতকাল থেকে খুলেছে শপিংমলগুলো।

Sharing is caring!