খেলাফত কায়েম হলে সব সাংবাদিককে ধরে ধরে জবাই

কওমি মাদরাসা শিক্ষক ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী এক ওয়াজ মাহফিলে মুসল্লিদের সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে কখন কোথা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

নোমানীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে— এ কথা আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ না দিলেও এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নতুন কিছুর ঝাল বেশিই থাকে। তিনি একজন নব্য মুসলিম। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে।’

রোববার (১১ এপ্রিল) রাতে শাখাওয়াত আল আমিন নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানীকে নিয়ে করা একটি নিউজ শেয়ার দিলে এসবি প্রধান ওই লিংকে গিয়ে এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী উগ্র কণ্ঠে বলছেন, ‘খেলাফত তথা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম হলে সব সাংবাদিককে ধরে ধরে জবাই করা হবে। দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠায় অনেক রক্ত দেওয়া হয়ে গেছে। এখন আর রক্ত দেবো না।’ এখন থেকে রক্ত নেওয়া হবে বলে লাফিয়ে ওঠেন।

মাহফিলটি কবে কোথায় হয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও সেই বক্তার নাম-পরিচয় ঠিকানা বের করেছে পুলিশ। ওই বক্তার নাম ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর সানকি পাড়ার ফজলুল হক মারকাযুল উলুম মাদরাসায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষা দেন।

ওই মাদরাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষক রাশেদ মাহমুদ জানান, নোমানীর বাড়ি ও জন্ম নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায়। তিনি ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হন। এরপর থেকে তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে আছেন।

নোমানী শহরের সানকিপাড়ায় সরকার রোডের ১১০/২ নম্বর বাড়ি ‘সুখ আলয়’-এ ভাড়া থাকেন। তবে একাধিক হেফাজত নেতার দাবি, নোমানী হেফাজতে ইসলামের কোনো কমিটিতেই নেই।

Sharing is caring!