তেলের তেলেসমাতি থামছেই না

তেলের তেলেসমাতি যেন থামছেই না। দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির মাঝে সরকারের সঙ্গে দাম নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের মাঝে ডাবল সেঞ্চুরির পথে যেন সয়াবিন তেল।

ভোজ্যতেলের রেকর্ড দাম বৃদ্ধির পর এখন নতুন সংকট সরবরাহ ঘাটতি। বিক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদাপত্র দেয়ার পরও পাওয়া যাচ্ছে না পাইকারদের কাছ থেকে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি গোপনে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা পর্যন্ত। যদিও বোতলে লেখা মূল্য ১৬৫-১৬৮ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের বিক্রি মূল্য ৭৯৫-৮০০ টাকা হলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ঠিক করা হয় ৭৯৫ টাকা। এর ২০ দিনের মাথায় গত সপ্তাহে আবার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা করে বাড়াতে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা প্রস্তাব দিলেও তাতে সায় দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে দুই সপ্তাহ আগে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো পেঁয়াজ সপ্তাহ ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে। রাজধানীর বাজারগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়েও যে পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৩০-৩৫ টাকায় সেই পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়।

গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। ওইদিন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকায়। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মসুর ডালেরও দাম। অপরিবর্তিত আছে মাংসের দাম।

শীতের সবজিতে স্বস্তি মেলেনি মিলছে না গরমেও। মানভেদে প্রতি কেজি সবজি কিনতে গুণতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গত ২ বছরের বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটা চালের দাম বেড়েছে দেড়গুণ, নাজিরশাইল কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা, খোলা আটা ও মসুর ডাল হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ আর সয়াবিন তেলের দর তো বাড়ছে প্রতি সপ্তাহেই।

রমজানের আগেই বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ ও তা বাস্তবায়নের দাবি ক্রেতা-বিক্রেতার।

Sharing is caring!