পুলিশে অভিযোগের পর ক্ষোভে ঘর পুড়িয়ে দিল

পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় তিনটি বসত ঘর পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার আপন বড় ভাই হুসাইন মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। নজরুলের স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তার ঘরে কাজকর্ম করে দিতেন একই বাড়ির আবুল হোসেন চৌকিদারের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম।

এ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি হুসাইন মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার ও ছেলে সরিফুল ইসলাম মোর্শেদা বেগমকে মারধর করেন।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার সময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হুসাইন মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা মোর্শেদা বেগমকে লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাথাড়িভাবে মারধর করে। তার ডাকচিৎকার শুনে মেয়ে সাবিনা তাকে রক্ষা করতে এলে তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেয়।

এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মোর্শেদা বেগম বাউফল থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দাখিল করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মোর্শেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাকে মারধরের ঘটনা তদন্তের জন্য বাউফল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুনিয়া বেগমের ছেলে সুমন পুলিশকে প্রভাবিত করে। তদন্ত কাজে বাধার সৃষ্টি করেন। সুমন হুসাইন মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামের ভাইয়ের ছেলে।

পুলিশ চলে যাওয়ার পর সুমন তাকে গালমন্দ করেন এবং থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় তাকে দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এরপর ওই দিন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার টিনশেড দোতালা ঘরটি পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় পাশের শাহজাহান প্যাদা ও তার ভাই ফারুক প্যাদার চৌচালা টিনের দুটি ঘরে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালে সরকারি অর্থায়নে তাদের দুই ভাইকে আধপাকা দুইটি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। ওই ঘরের চার পাশে তিনি টিনের বারান্দা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। নতুন করে ঘরে তোলার জন্য তিনি টাকা জমাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় তার ঘরতোলার জন্য রাখা ও তার ভাই ফারুক টাকা আগুনে পুড়ে যায়। এ ছাড়াও আগুনে মোর্শেদা বেগমের কিস্তির টাকাও পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পুত্র সুমন বলেন, দুইপক্ষই আমার চাচা। আমি কোনো চাচার পক্ষে পুলিশকে প্ররোচিত করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করিনি। আমাকে সায়েস্তা করতে আগুনের ঘটনায় জড়িয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল মামুন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে। আগুন লাগার ঘটনা পরিকল্পিত কিনা খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্যুতের শটশার্কিট থেকেও আগুন লেগে ঘরগুলো ভস্মীভূত হতে পারে। তবে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য আমরা সব দিক মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি।

Sharing is caring!