প্রবাসীরা পাঠালো ১৩ হাজার কোটি টাকা

নাগরিক প্রতিবেদক
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। কোরবানির ঈদের আগে ১৯ দিনে ১৫৫ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বাজার দরে টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ১৩ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুতেও উল্লম্ফন দেখল বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক। করোনা মহামারির মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, যা ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স কখনই আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্স প্রবাহের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি জুলাই মাসের ১৯ দিনে (১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই) প্রবাসীরা মোট ১৫৫ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার ডলার (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এর আগে কোনো মাসের ১৯ দিনে এত বেশি রেমিট্যান্স কখনই আসেনি। এই রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৬ কোটি ১৯ লাখ ডলার।

বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪২ লাখ ডলার। বেসরকারি ৪০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১১৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার। আর বিদেশি ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

২১ জুলাই বুধবার কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। তার আগে ১৯ জুলাই মঙ্গলবার ছিল ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস। মহামারির মধ্যে গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে; ওই মাসে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পাঠান প্রবাসীরা, যা এক মাসের হিসাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাসেই ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স এসেছে। গড় হিসাবে প্রতি মাসে ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার করে এসেছে। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি।

Sharing is caring!