করোনা পরিস্থিতিতে আয় কমে যাওয়ায় প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে কর্মী ছাটাই

NAGORIK EXCLUSIVE , লিখেছেন নাজমুস সাকিব

ট্রান্সকম গ্রূপের মালিকানাধীন দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি ষ্টার গত বেশ কিছু মাস ধরেই আয় কমে যাওয়াতে কর্মী ছাটাই শুরু করেছে। জুলাই মাস জুড়ে প্রথম আলোতে রিপোর্টার এবং অফিস সহকারী পদে কর্মরত প্রায় ৩৭ জনের চাকরি চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাছাড়া এই অগাস্ট এবং আসছে সেপ্টেম্বর মাসে আরো প্রায় আশি জন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এসব কর্মচারীদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে বলা হয়। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে চাকরি থেকে ছাটাই করা হলে কর্মচারীদের শ্রম আইন অনুযায়ী বেশ কিছু অর্থ এবং সুযোগ সুবিধা দেবার বিধান রয়েছে। মূলত এসব সুযোগ সুবিধা যাতে দেয়া না লাগে একারণেই কর্মচারীদের দিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে সই নেয়া হয়েছে। তাছাড়া কর্মচারীদের মিডিয়ার সাথে এসব অভ্যন্তরীন বিষয়ে কথা না বলার জন্যও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

একই অবস্থা বিরাজ করছে ট্রান্সকমের মালিকানাধীন জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ডেইলি স্টারেও। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে ডেইলি স্টারের সার্কুলেশন প্রায় পঁচাত্তর ভাগ কমে গিয়েছে। তাছাড়া লাভের পরিমান বিগত কয়েক মাস ধরে কমেছে প্রায় আশি শতাংশ। এমনি প্রেক্ষাপটে গত ঈদ উল আজহায় ঈদ বোনাসের পঞ্চাশ ভাগ অর্থ কম দেয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
তাছাড়া ডেইলি স্টারের প্রোডাকশন এবং আইটি ডিপার্টমেন্টের প্রায় ৩৫ জন কর্মীকে এ মাসের মধ্যেই ছাটাই করা হবে বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে কর্মরত বেশ কিছু রিপোর্টার কথা বলেছেন এ প্রতিবেদকের সাথে। তারা বলেন ট্রান্সকমের মালিক লতিফুর রহমান যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে এ পত্রিকা দুটি থেকে এভাবে অন্যায়ভাবে কর্মচারীদের চলে যেতে বাধ্য করা হতো না।

এ ব্যাপারে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি ষ্টার এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের সাথে নাগরিক টিভির পক্ষ থেকে ফোন করে তাদের মন্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় নি।

Sharing is caring!