র‍্যাব ‘উদ্ধারে’ নেমেছে সরকার

একটা সময় এদেশের বিরোধী মতের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ র‍্যাবের আতংকে ছিল। কখন এই বাহিনী তুলে নিয়ে গুম করে দেয় কিংবা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করে। এভাবে এই র‍্যাব একটা সময়ে দানবে পরিণত হলও। তারপর যখন র‍্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এলো, তখনই যেন বদলে গেল এই এলিট ফোর্স। একেবারে ‘নিরীহ’ হবার ভান ধরলো।

আর এই ঘাপটি মেরে থাকা র‍্যাবকে উদ্ধারে নেমেছে সরকার। র‌্যাব এবং এর সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেশটিতে আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাদের পদক্ষেপের কথা জানায়। বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাস ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ কাজ করছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি সেখানে আমাদের দূতাবাস আগে থেকে কেন জানতে পারেনি? তারা বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে গ্যাপ তৈরি হয়েছিল।

সংসদীয় কমিটি লবিস্ট নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেটা নিয়ে কাজ করছে। এর বাইরে পিআর ফার্ম, আইনজীবী নিয়োগের কথাও বলেছে। আমরা এ বিষয়ে বলেছি, যা যা করার করুক। দরকার হলে বাজেট বাড়িয়ে নিক। ফান্ড লাগলে বলুক। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নে যে জায়গায় আছে, সেখানে এধরনের অনেক কথাবার্তা আসবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমদসহ বাহিনীর ৭ কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে তলব করে সরকারের অবস্থান জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

Sharing is caring!