রিমান্ডের কথা শুনেই অজ্ঞান হেফাজত নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক তাণ্ডবের একটি মামলায় রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ শুনে আদালতেই অচেতন হয়ে পড়েছেন জেলা হেফাজতে ইসলামের সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল হক। বুধবার (১৬ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়।

আব্দুল হক জেলা শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। পুলিশ বলছে, রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে শুনে অচেতন হওয়ার ‘অভিনয়’ করেন আব্দুল হক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তাণ্ডবের একটি মামলায় বুধবার হেফাজত নেতা আব্দুল হককে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আব্দুল হককে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন বিচারক আল আমিন। পরবর্তীতে রিমান্ড মঞ্জুরের খবরে অচেতন হয়ে পড়েন আব্দুল হক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হক জানান, ওই ব্যক্তির রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ সব কিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মানসিক চাপে আছেন বলে পরিলক্ষিত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল হক জানান, হেফাজত নেতা আব্দুল হককে তাণ্ডবের ১৩টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির পর এজলাস থেকে বের হয়ে বাইরে টেবিলের ওপর আসরের নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজের পর হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিকভাবে সুস্থ হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তিনদিনের তাণ্ডবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হন। এসব ঘটনায় ৫৫টি মামলা হয়েছে।

Sharing is caring!