রাইড শেয়ারিং চালুর দাবিতে বিক্ষোভ


রাজধানীতে মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তারা রাইট শেয়ারিং বন্ধে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন। রাজধানীর মগবাজার, শান্তিনগর, জাতীয় প্রেসক্লাব ও খিলক্ষেতে সড়ক অবরোধ করে মিছিল ও বিক্ষোভ করেন তারা। তাদের বিক্ষোভের সময় ওই সড়কগুলোতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়। আজ ৭ এপ্রিল বুধবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় এক ঘণ্টারও বেশি সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। পরে পুলিশ তাদের লাঠি চার্জ করে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।

রাইড শেয়ারিং চালকদের দাবি, লকডাউনের তৃতীয় দিনে রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও বলবৎ রয়েছে অ্যাপ ও চুক্তিভিত্তিক মোটরবাইক চালকদের ওপর। যে কারণে বাইক নিয়ে রাস্তায় নামলেই পুলিশের মামলার শিকার হচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, রাইড শেয়ারিং চালুর দাবিতে আজ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জড়ো হন শত শত মোটর সাইকেল চালক। তারা এসময় বিক্ষোভ ও র্যালি বের করেন। এরপর সেই র্যালি নিয়ে শান্তিনগরে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকার কয়েকটি রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখলেছুর রহমান এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোক্তার সরদার ঘটনাস্থলে যান। তারা রাইডিং শেয়ার চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও তারা রাজি হয়নি। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ যান এবং মোটরবাইক চালকদের রাস্তা থেকে চলে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেন। এসময় তিনি বলেন, আপনাদের অনুরোধ করছি। আপনারা পাঁচ মিনিটের মধ্যে রাস্তা ছেড়ে দিন। না হলে আমরা বাধ্য হবো রাস্তা খালি করতে। পরে পুলিশ মোটরবাইক চালকদের লাঠি চার্জ করে। বাধ্য হয়ে বাইকাররা রাস্তা থেকে সরে যান। পরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, তাদের দাবি ছিল অযোৗক্তিক। আমরা প্রথমে তাদেরকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা শুনেনি এবং রাস্তাও ছাড়েনি। পরে আমরা পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রাস্তা থেকে তাদের অপসারন করেছি।

পরে তারা সেখান থেকে মগবাজার সড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর সেখানেও তারা সড়ক অবরোধ করে এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে ওই সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশী হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এদিকে একই সময়ে খিলখেতের বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নেয় মোটরসাইকেল চালকরা। তারা এসময় প্রধান সড়ক অবরোধ করে এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। রাইড শেয়ারিং চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় বিমানবন্দর থেকে আসা ও সেদিকে চলাচলকারী হাজারও যানবাহন আটক পড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টা খানেক দুই পাশের যান চলাচল থমকে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন জরুরী কাজে বের হওয়া মানুষজন। অবশ্য পরে পুলিশী হস্তক্ষেপে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়।

খিলখেত থানার উপ-পরিদর্শক মো. সজল বলেন, লকডাউনের মাঝেও মোটরসাইকেল চালকরা সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে অবরোধ করে। সকাল ১১টার দিকে রাস্তা অবরোধ করেছিল। পরে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়ে তাদের বুুঝিয়ে সরিয়ে দেয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

মোটরবাইকাররা বলেন, রাজধানীতে আমরা হাজার হাজার চালক অ্যাপের মাধ্যমে বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু সরকারে নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের পরিবার নিয়ে পথে বসার অবস্থা হয়েছে। পাঠাও চালক সুমন ইসলাম বলেন, আমরা সকালে গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করছিলাম। কিন্তু সার্জেন্ট আমাদের থামিয়ে অযথা মামলা দিচ্ছে। এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার পর্যন্ত মামলা দিয়েছে। এখন গাড়ি না চালাতে পারলে আমরা খাবো কী? পরিবার নিয়ে যাবো কোথায়?

বিক্ষোভ থেকে মোটরসাইকেল চালকরা দাবি করেন, সরকারকে দ্রুত রাইড শেয়ারিং সেবা চালু করতে হবে। কারণ তারা রাইড শেয়ারিং করতে না পারায় তাদের আয় হচ্ছে না। এ আয়ের টাকায় অনেকের সংসার চলে। সন্তানের দুধ কেনা হয়। মা বাবার ওষুধ কেনেন। আয় না থাকায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই সেবা বন্ধ থাকায় তারা এখন পুরোপুরি বেকার সময় কাটাচ্ছেন। রাস্তায় যাত্রী নিয়ে বের হলে পুলিশ মামলা দেয়। দ্রুত রাইড শেয়ারিং সেবা চালু এবং অহেতুক মামলা বন্ধ করতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি।

গত ৪ এপ্রিল সরকার গণপরিবহন ও রাইড শেয়ারিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে কয়েক দফা আন্দোলনে নামে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের এই মোটরবাইক চালকরা। এ সময় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করে রাখে তারা।

Sharing is caring!