রাবিতে ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্যে অসহায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা

দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগ সিট বাণিজ্য চালায় এটা নতুন কোন সংবাদ নয়। আর এর জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশুনার ক্ষতি হয়। শুধু পড়াশুনার ক্ষতিই নয়, অনেক সময় ছাত্রলীগ সিট বাণিজ্যের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নানা ধরনের নির্যাতনও চালায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাদার বখ্শ হলে প্রাধ্যক্ষের তুলে দেওয়া এক আবাসিক শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দুপুরে হলের ১৫৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে আবাসিক শিক্ষক সাজু সরদার গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মহিবুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদ হাসান সোহাগ। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। তিনি সংস্কৃত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে সেখানে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হন। আবাসিক শিক্ষক সাজু সরদার দুই শিক্ষার্থীর সিটের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে ছাত্রলীগকর্মী সোহাগ সমাধানে রাজি হয় নি। এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা বিছানা বের করার বিষয়ে হাউজ টিউটর সাজু সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হয় নি। এসময় এক সাংবাদিক হলের সিট বাণিজ্য নিয়ে কথা বলতেই উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে যায়।

এসময় ছাত্রলীগ কর্মী সোহাগ বলেন, ‘এতোক্ষণ লিগ্যাল কথা হচ্ছিল। সিট বাণিজ্যের বিষয়টি আসলো কেন? এখন আমি এই ছাত্রকে হল থেকে নামিয়ে দেব। কে আসে আসুক। আপনি (আবাসিক শিক্ষক), প্রভোস্ট স্যার আর সাংবাদিক আসুক সমস্যা নাই।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ওই সিটে আমাদের ছাত্রলীগের এক কর্মী ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে অন্যজন উঠে। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। পরে হাউজ টিউটর বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আবাসিক হল শিক্ষক সাজু সরদার বলেন, হলের সিট নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। আমি দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলাম। এসময় উচ্চস্বরে হয়ে সোহাগ ওই শিক্ষার্থীকে যেকোনো মূল্যে নামিয়ে দেওয়ার হুশিয়ারি দেন। আমি বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষকে জানিয়েছি। এছাড়া ওই শিক্ষার্থীকে রুমে থাকার নির্দেশ দিয়েছি।

সার্বিক বিষয়ে মাদার বখশ্ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীম হোসেনকে একাধিকার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Sharing is caring!