সাবিনা ইয়াসমিনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

মাহমুদুল হাসান

সাবিনা ইয়াসমিনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিস অভিমুখে এক গণপদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীজোট। উল্লেখ্য গত ৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ৩ দফা দাবী নিয়ে নান্দাইল উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক নাগরিক অবস্থানের ডাক দেয় সংগঠনটি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটামও দেয়া হয় সেদিন।

গণপদযাত্রা থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকান্ডের ১২ দিন অতিবাহিত হলেও অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা বলেন, সাবিনা হত্যামামলা শুরুতেই আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় রূপ দেয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। মামলার বাদী সাবিনার মা রহিমা খাতুনের ভাষ্য সেখানে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। যেহেতু মা পড়াশুনা জানেন না তাই মামলাটির ভাষা এমনভাবে দেয়া হয়েছে যেন অপরাধীরা সহজে পাড় পায়। সাবিনার সাথে মায়ের শেষ বক্তব্যে যেখানে সাবিনা তার জীবন শংকার মুখে বা হত্যা করা হবে মর্মে বক্তব্য দিয়েছে সেখানে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে স্বামী তাকে আত্মহত্যা করায় প্ররোচিত করেছে। এমনকি শরীরে আঘাতের দাগ, যোনীপথ রক্তাক্ত থাকা সত্ত্বেও (গোসল যিনি করিয়েছেন তার ভাষ্যমতে) পুলিশ মামলায় বলেছে আঘাতের চিহ্ন নেই! পূর্বের নির্যাতন, সাবিনার মৃত্যুর দুই ঘন্টা আগে মায়ের কাছে ফোন এবং হত্যা করবে মর্মে আশংকামূলক বিবৃতি, যোনীপথে রক্তাক্ত অবস্থা ও শরিরে ক্ষত চিহ্ন। এসবকিছু কখনোই স্বাভাবিক আত্মহত্যাকে নির্দেশ করেনা। তারা আরো অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসন সন্দেহভাজন আসামীদের মুক্ত অবস্থায় রেখে এই মামলা ইনভেস্টিগেশন করছে।

সংগঠনের আহবায়ক শিবলী হাসান বলেন, আমরা যখন এই ঘটনা জেনে রাস্তায় নামি তখন নানা উপায়ে আমাদের আন্দোলনকে বাধা প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে৷ গত বুধবার আমাদের কর্মসূচিতে পুলিশ নানা উপায়ে বাধা প্রদান করেছে। রাজনীতি আর প্রশাসন বুঝি একজায়গায় মিশে একজন সাবিনাকে মৃত্যুর পরেও আবার মারতে চাইছে! নাহয় হত্যাকারীদের কেনো গ্রেফতার করা হবেনা? কার বা কাদের ইশারায় খুনিরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি।

গত ২৯শে জুলাই উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বাতুয়াদি গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে সাবিনা ইয়াসমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর বাড়ির লোকজন এ মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালালেও সাবিনার মা বলছেন, এটি ছিলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীজোট ইউএনও বরাবর তিন দফা দাবী উপস্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো- ১. সাবিনা ইয়াসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। ২. ভিক্টিম পরিবারের প্রতি পুলিশ প্রশাসনের সহায়তামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। এবং ৩. সাবিনার মায়ের বক্তব্য আমলে নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে।

দ্রুততার সাথে এই দাবী পূরণ না হলে আগামী বুধবার থেকে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে সাবিনার মায়ের প্রতিবাদী অবস্থানসহ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে ন্যায়যাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করবে সংগঠনটি।

Sharing is caring!