কাজ ফেলে দিনে ঘুমান বরিশালের মেয়র

শহরের মেয়র দিনে জনগণের জন্য কাজ করবেন এটাই নিয়ম। কিন্তু সেই সময় যদি তিনি ঘুমিয়ে কাটান আর রাত হলে নগর ভবনের কর্মক্ররতাদের তার বাসায় ডেকে এনে বসিয়ে রাখেন তবে সেটা প্রচণ্ড অন্যায়। আর এই অন্যায় কাজটিই করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

২০১৮ সালে শপথ গ্রহণের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহ ঠিকমত দিনে অফিস করেছেন। এরপর তিন বছর ধরে বেশির ভাগ দিনই সিটি করপোরেশনের দাপ্তরিক কাজগুলো করছেন রাতের বেলায় নিজ বাসায় বসে।

নগর ভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান মেয়র অফিস করেন না। ফাইল সই করানোর জন্য বাসায় ডাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি দেখা করেন। কোনো কোনো দিন দেখা না করেই সাক্ষাত্প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেন তিনি।

বরিশাল নগর ভবনের অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা জানান, মেয়রের এপিএস ও শ্যালক মো. মোস্তফা জামান মিলন সন্ধ্যার পর যেকোনো সময় ফোন করে মেয়রের বাসায় ডাকেন। সন্ধ্যা ৮টা-৯টার মধ্যে মেয়রের বাসায় গেলে তিনি দেখা করেন রাত ৩টার পর। বিসিসির কর্মকর্তাদের অধিকাংশ রাতই কেটে যায় মেয়রের বাসার সোফায় শুয়ে।

বর্তমানে চাকরি নিয়ে অনেকটা আতঙ্কের মধ্যেই কাজ করছেন বরিশাল নগর ভবনের কর্মীরা। তারা জানান, বিসিসিতে এখন কথায় কথায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। এখন পর্যন্ত নগর ভবনের ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওএসডি এবং ২৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছেন মেয়র।

তাদেরই একজন বিসিসির সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল হক। নগর ভবনের কর্মীদের ভাষ্যমতে, নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারদের কাছে বিল করায় চাকরিচ্যুত হয়েছেন তিনি। ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিসিসির গাড়ি ভাড়া ও গাড়ির তেলের টাকা পরিশোধের দাবি তোলায় চাকরি হারিয়েছেন তিনি। ঠিকাদাররা এ বিষয়ে ‘অভিযোগ’ তুললে মেয়র তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, দুবার বিল করার কারণ কী? জবাবে জহিরুল হক বলেছিলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব যান ব্যবহার করতে হলে যানের ভাড়া ও তেলের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর মেয়রের ‘কথার ওপর কথা বলার’ অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এদিকে সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে নেশা করে রাত জাগার অভ্যাস বরিশালে প্রায় ওপেন সিক্রেট এখন। সবাই জানে কিন্তু তার এবং তার বাহিনীর হামলার আতঙ্কে কেউ সাহস করে মুখ খুলতে পারে না। এমনকি নেশা করে একদিন রাতে পোস্টার অপসারণ করতে গিয়ে মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশাসনের সাথে ঝামেলায়ও জড়িয়েছিলেন। সে সময় গদি রক্ষায় প্রশাসনের সাথে আপোষ করেছিলেন শেখ হাসিনার এই ভাইয়ের ছেলে।

Sharing is caring!