মাওলানাকে গ্রেফতারের গুজব, সালথা রণক্ষেত্র, নিহত-১

পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও জনৈক মাওলানাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো ফরিদপুরের সালথা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনার পর কয়েক হাজার মানুষ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে হাফেজ জুবায়ের হোসেন (২৫) নামে একজন নিহত হন। সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের স্থানীয় রামকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশরাফ আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় করোনা ঠেকাতে বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি ফুকরা বাজারে যান। সে সময় চা পান করতে আসা জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে লাঠিপেটা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে পরে ফুকরা বাজারে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর সেখানে সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। পরে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও জনৈক মাওলানাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ এসে থানা ঘেরাও করে। পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।


সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিব সরকার বলেন, স্থানীয় জনতা পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও জনৈক মাওলানাকে গ্রেফতারের পর তাকে মারপিট করা হচ্ছে গুজব ছড়িয়ে থানা ঘেরাও করে। পরে আমার বাসভবন, উপজেলা পরিষদ, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় আমার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর জানান, আমার বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, লকডাউনের প্রথমদিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা মিজানুর নামে এক এসআইকে মারপিট করে। এরপর তারা গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে উপজেলা পরিষদ, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Sharing is caring!