সেলিম চেয়ারম্যানের আরও একটি মামলা খারিজ

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন চাদঁপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান। তিনি তথ্য গোপনসহ নানা কৌশলে উচ্চ আদালতে আবারও বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়ার জন্য আবেদন করেন। তবে এবার মামলার শুনানি শেষে সরাসরি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

দুই দিনের শুনানি শেষে সোমবার এ রায় দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি খিজির হায়াত উচ্চ আদালতের বেঞ্চ।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান আবারও চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাইমচরের ৫টি মৌজায় বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়ার জন্য নিজ খরচে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করার দাবিতে আবারও একটি রিট মামলা দায়ের করেন গত এপ্রিল মাসে। আদালত রোববার এবং সোমবার এ দুদিন শুনানি করেন।

তিনি বলেন, বালু উত্তোলন সংক্রান্ত আইনের বিধান আমরা আদালতকে দেখিয়েছি। আরেক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যে স্থগিতাদেশ আছে সেটিও আদালতের নজরে এনেছি। সব কিছু দেখানোর পর আদালত সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের কোনো বক্তব্যে আদালত সন্তুষ্ট হননি। তারা আমাদের বক্তব্যের কোনো সদুত্তরও দিতে পারেননি। সে কারণে আদালত সরাসরি মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।

এর আগে ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম খানকে মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনে অনুমতি দিতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন তা স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বালু তোলার অনুমতি বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের (লিভ টু আপিল) পরিপ্রেক্ষিতে ৪ এপ্রিল এ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।

২০১৫ সালে নৌপথ সচল করার কথা বলে রিট করেছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় চার বছর আগে ২০১৮ সালের এপ্রিলে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজায় মেঘনার ডুবোচর থেকে ৩০ কোটি ৪৮ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের মাধ্যমে নদীর তলদেশে কোথায় কত দূরত্বে মাটি রয়েছে তা আধুনিক পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা বা এর মানচিত্র তৈরি করা হয়। ডুবোচর কাটতে হলে প্রথমে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করতে হয়। কিন্তু নদী থেকে যত্রতত্র শত শত ড্রেজার বসিয়ে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে জাতীয় সম্পদ ইলিশ ক্ষতিগ্রস্ত, মাছের খাদ্য কমে যাওয়া, নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা। এ নিয়ে একাধিক সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, চাঁদপুরের নদী অঞ্চল থেকে গত কয়েক বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এমনকি অনুমতি ছাড়াই চেয়ারম্যান বছরের পর বছর বালু বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Sharing is caring!