দেশে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট

কয়েক মাস ধরেই বাড়ছে ভোগ্যপণ্য চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, চিনি ইত্যাদি। প্রায় সব পণ্যের দর ঊর্ধ্বমুখী হলেও গত দু’দিনে ভোজ্য তেল নিয়ে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। সয়াবিন তেলের দাম একেক দোকানে একেক রকম। দোকনিরা যে যেভাবে পারছে সেভাবে ইচ্ছেমতো ক্রেতাদের কাছে সয়াবিন তেল বিক্রি করছে।

সরকার নির্ধারিত দামও কেউ মানছে না। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে ক্রেতাকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেকেই আবার সয়াবিন তেল কিনতে গিয়ে ফিরে গেছেন। খোলা সয়াবিন তেল তো বাজার থেকে প্রায় উধাও।

বুধবার রাত থেকেই খুচরা বাজারে ভোজ্য তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ‘ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো সম্ভব নয়’ মন্ত্রী টিপু মুন্‌শির এ কথা বলার পর থেকেই বাজারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সাধারণ ভোক্তারা সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়েছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১শে মে’র পর থেকে সয়াবিন এবং ৩১শে ডিসেম্বর থেকে পামঅয়েল খোলা অবস্থায় বিক্রি করা যাবে না। এই সময়ের পরে সয়াবিন ও পামতেল বোতলজাত করে বিক্রি করতে হবে। এ ছাড়া দাবি অনুযায়ী সয়াবিন ও পামতেলের দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই দুই কারণেই মিল-মালিকরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কইসঙ্গে বোতলজাত তেল সরিয়ে রেখে নিজেদের মতো নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন বিক্রি করছে। কারণ, বোতলজাত তেলের গায়ে লেখা দামের বেশি রাখার সুযোগ নাই। অপরদিকে খোলা সয়াবিন এবং পামতেলের দর নির্ধারিত করা থাকলেও বিষয়টি মনিটর করা সহজসাধ্য নয়। তাই আপাতত এই সুযোগটিই গ্রহণ করছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বাজারগুলোতে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ১৫০ ও ১৬৮ টাকা। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম রাখা হচ্ছে ৮৩০ টাকা করে। গত সপ্তাহে একই ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৭৯০ টাকা দরে। ৭৬০ টাকা দামের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৭৯০ টাকা দরে। খোলা বা লুজ পামঅয়েলের দাম রাখা হচ্ছে ১৫৫ টাকা লিটার। গত সপ্তাহে এই ভোজ্য তেল বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা লিটার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পামঅয়েলের দাম বেড়েছে লিটারে ১৫ টাকার মতো।

Sharing is caring!