বশেমুরপ্রবির শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে পড়েছে গোপালগঞ্জ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়ায় সড়ক অবরোধ করলে বাইশটি জেলার সঙ্গে গোপালগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

জানা যায়, পরে দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান ও অন্যান্য ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের আলোচনা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার ও মীমাংসার আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যেতে থাকেন। এর একপর্যায়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী বেলা ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এর সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও পরিবহণ শ্রমিকরা যোগ দেয়। এসময় উঠে যায় সড়ক অবরোধ।

অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে গণমাধ্যমের সামনে রাজি হননি।

এর আগে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় গোপালগঞ্জ শহরের নবিনবাগ এলাকায় এক ছাত্র ও এক ছাত্রী মাহেন্দ্র করে বাসায় ফেরার পথে ৭/৮জন দুষ্কৃতকারীর দ্বারা অপহৃত হয়। নির্মাণাধীন জেলা প্রশাসন স্কুল ভবনের ভেতরে নিয়ে তাদের প্রথমে মারধর ও পরে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনায় রাতে শিক্ষার্থীরা থানার গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। ভোর রাতে সন্দেহভাজন তিনজনকে পুলিশ আটক করলেও এই মুহূর্তে তাদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করেনি। ওই তিন শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ ও তাদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার ও ফাঁসির দাবিতে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। এর ফলে রাস্তার দুই ধারে কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক বাস ও প্রাইভেটকার আটকে পড়ে। তবে শিক্ষার্থীরা পণ্যবাহী পরিবহণ ও অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করতে দেয়।

Sharing is caring!