সর্বাধিক পদক সোনিয়া ফয়সালের

বারের বাংলাদেশ গেমসে সর্বাধিক পদকজয়ী পুরুষ ও নারী ক্রীড়াবিদের একটি তালিকা এসেছে টেকনিক্যাল কমিটির হাতে। জানা গেছে, নৌবাহিনীর সাঁতারু সোনিয়া আক্তার টুম্পা ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮টি স্বর্ণ (ব্যক্তিগত ৫টি সোনা, রিলে ৩ সোনা) ছাড়াও ৩ রুপা জিতেছেন।

অন্যদিকে পুরুষ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাইক্লিষ্ট বিশ্বাস ফয়সাল হোসাইন। তিনি জিতেছেন পাঁচটি স্বর্ণপদক। পাঁচটি ইভেন্টেই নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন ফয়সাল। এছাড়া নৌবাহিনীর সাঁতারু জুয়েল চারটি স্বর্ণ ও দুটি রুপা এবং একই সংস্থার অ্যাথলেট শিরিন আক্তার একটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ চারটি স্বর্ণপদক জিতেছেন।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে ৩১ ডিসিপ্লিন ঠিক থাকলেও করোনার কারণে ক্রীড়াবিদদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু অবাক হলেও সত্যি এবারের গেমসে ছিল রেকর্ডের ছাড়াছড়ি। নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে ৬০টি। যা নিঃসন্দেহে অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যে ভারোত্তোলনে ৩৪টি, সাইক্লিংয়ে ১৩টি, সাঁতারে ১১টি এবং একটি করে আরচ্যারি ও অ্যাথলেটিকসে। ২০১৩ সালের অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে নতুন রেকর্ড হয়েছিল ২২টি।

ভারোত্তোলনে সর্বাধিক তিনটি করে রেকর্ড গড়েন টানা দুটি সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ) সোনাজয়ী ভারোত্তোলক আনসারের মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। তিনি রেকর্ড গড়েন ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে। এছাড়া ঊর্ধ্ব-১০৯ কেজিতে সেনাবাহিনীর ফরহাদ আলী। দুটি করে রেকর্ড গড়েন তিনজন।

৬১ কেজি ওজন শ্রেণীতে আনসারের মোস্তাইন বিল্লাহ, ১০২ কেজি শ্রেণীতে সেনাবাহিনীর আশিকুর রহমান, ঊর্ধ্ব-৮৭ কেজিতে সেনাবাহিনীর নাজনিন আক্তার মুন্নি। একটি করে রেকর্ড গড়েছেন ৬৭ কেজি ওজন শ্রেণীতে আনসারের বাকী বিল্লাহ, ৬৭ কেজি ওজন শ্রেনীতে সেনাবাহিনীর শিমুল কান্তি সিংহ, ১১৮ কেজি ওজন শ্রেণীতে সেনাবাহিনীর হামিদুল ইসলাম, ৮১ কেজি শ্রেণিতে সেনাবাহিনীর মনোরঞ্জন রায়, ৮৯ কেজি শ্রেণীতে আনসারের সাখায়েরত হোসেন প্রান্ত, ১০২ কেজিতে আনসারের আমিনুল ইসলাম, ১০৯ কেজি শ্রেণীতে সেনাবাহিনীর আব্দুল্লাহ আল মোমিন, ১০৯ কেজিতে সেনাবাহিনীর আবদুল্লাহ আল মুমীন, ৪৯ কেজি ওজন শ্রেণীতে সেনাবাহিনীর স্মৃতি আক্তার, ৫৫ কেজিতে আনসারের ফুলপতি চাকমা, ৫৫ কেজিতে সেনাবাহিনীর মার্জিয়া আক্তার, ৫৯ কেজিতে আনসারের ফাহিমা আক্তার ময়না, ৭১ কেজি ওজন বিভাগে সেনাবাহিনীর ফারজানা আক্তার রিয়া, ৮১ কেজিতে সেনাবাহিনীর মুনিরা কাজী, ৮৭ কেজিতে সেনাবাহিনীর তানিয়া খাতুন, ঊর্ধ্ব-৮৭ কেজিতে আনসারের সোয়াইবা রোকাইয়া।

সাইক্লিংয়ের ১০০০ মিটার টাইম ট্রায়াল বিশ্বাস ফয়সাল হোসাইন, ১২০০ মিটার অলিম্পিক স্প্রিন্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশ্বাস ফয়সাল হোসাইন, আলমগীর হোসেন ও মুক্তাদুর আল হাসান, ৪০০০ মিটার ইন্ডিভিজুয়্যাল পারস্যুটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সবুর খান, ১০০০ মিটার স্প্রিন্টে সেনাবাহিনীর বিশ্বাস ফয়সাল হোসাইন, ১৬০০ মিটার টিম টাইম ট্রায়ালে সেনাবাহিনী বিশ্বাস ফয়সাল হোসাইন, আলমগীর হোসেন, মুক্তাদুর আল হাসান ও শরিফুল ইসলাম, ৪০০০ মিটার টিম পারস্যুটে সেনাবাহিনী বিশ্বাস ফয়সাল হোসাইন, শরিফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও হেলাল উদ্দিন নতুন রেকর্ড গড়েন।

নারী বিভাগে ৫০০ মিটার টাইম ট্রায়ালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নিশি খাতুন, ৮০০ মিটার অলিম্পিক স্প্রিন্টে সেনাবাহিনী শিল্পী খাতুন ও সমাপ্তি বিশ্বাস, ২০০০ মিটার ইন্ডিভিজুয়াল পারস্যুটে সেনাবাহিনীর সুবর্ণ বর্মা, ১০০০ মিটার স্প্রিন্টে সেনাবাহিনীর শিল্পী খাতুন। ১২০০ মিটার টিম টাইম ট্রায়ালে সেনাবাহিনী শিল্পী খাতুন, সুবর্ণা বর্মা, সমাপ্তি বিশ্বাস ও গীতা রায়, ৪০০০ মিটার স্ক্র্যাচ রেসে সেনাবাহিনীর সুবর্ণা বর্মা, ২০০০ মিটার টিম পারস্যুটে সেনাবাহিনী শিল্পী খাতুন, সুবর্ণা বর্মা, সমাপ্তি বিশ্বাস ও সুমিত্রা গাইন নতুন রেকর্ড গড়েন।

সাতাঁরের পুরুষ বিভাগে ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে সেনাবাহিনীর জুয়েল আহম্মেদ, ১০০ মিটার বাটার ফ্লাইয়ে নৌবাহিনীর মাহমুদুন্নবী নাজিদ, ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নৌবাহিনীর আসিফ রেজা, ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নৌবাহিনীর মাহফিজুর রহমান সাগর, ২০০ মিটার বাটার ফ্লাইয়ে নৌবাহিনীর কাজল মিয়া, ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক সেনাবাহিনীর জুয়েল আহম্মেদ নতুন রেকর্ড গড়েন।

৪*১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রীলেতে নৌবাহিনীর আরিফ রেজা, মাহমুদুন্নবী নাহিদ, অনিক ইসলাম ও মাহফিজুর রহমান, ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে নৌবাহিনীর কাজল মিয়া রেকর্ড বুকে নাম লেখান। নারী বিভাগে ১০০ মিটার বাটার ফ্লাইয়ে নৌবাহিনীর সোনিয়া খাতুন, ৫০ মিটার বাটার ফ্লাইয়ে নৌবাহিনীর সোনিয়া খাতুন নতুন রেকর্ড গড়েন। আরচারিতে একটি রেকর্ড হয়েছে। রেকর্ডটি গড়েছেন কম্পাউন্ড ইভেন্টে বাংলাদেশ পুলিশের অসীম কুমার দাস। অ্যাথলেটিক্সে নারীদের ২০০ মিটার স্প্রিন্টে নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার একমাত্র রেকর্ডটি গড়েন।

Sharing is caring!