হ্যাডম যদি এতই থাকে তাহলে খালেদা জিয়াকে এই ফেসিস্ট সরকারের কবল মুক্ত করে দেখাও !!

রুমান বখত চৌধুরী, লন্ডন থেকে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী না হয় স্নেহের আতিশয্যে তারেক রহমানকে কিছু একটা পাব্লিকলি বলেই ফেলেছেন, তো সেটা ট্যাকল করতে কি তারেক রহমান তার ভীরু কাপুরুষ নেতাদের ব্যবহার করবেন? যে নেতারা তাদের মায়ের মতো নেত্রীকে অন্যায়ভাবে জেলে দেয়ার সময় টুঁশব্দটি করে নি। বলা যায় খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে দিয়ে তারা তাদের নিজের জীবনই একপ্রকার বাঁচিয়েছেন। এখনো খালেদা জিয়া সরকারের নির্মম রসিকতার শিকার হয়ে শেখ হাসিনার অনুকম্পায় গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। বিএনপি যদি সত্যিই জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত দল হতো তাহলে আজ দেশের বৃহত্তম এমন দলকে নিয়ে আওয়ামীলীগ এমন হাসি ঠাট্টা তামাশায় মেতে উঠত না। তাদের নেত্রীকে নিয়ে ইঁদুর বিড়াল খেলত না।যাদের কোল থেকে মাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা কিছু করতে পারেনা, তারাই যখন জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো অশীতিপর মুরব্বীর সামান্য একটা ইতিবাচক পরামর্শকে আনবিক ফিউশন প্রক্রিয়ায় গলাবাজির মাধ্যমে বালির বাঁধ দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়, তখন বুঝতে আর বাকি থাকেনা যে এই দলটি তারেক বন্দনায় ধ্বংসের কোন বিন্দুতে পৌঁছেছে?

এই ভীরু কাপুরুষ নেতারা মূলত জাফরুল্লাহর কথার ওপর ভর করে (নিরীহ প্রতিপক্ষকে কিছু বললে তো আর পাল্টা কিছু হবে না) নেতার গুডবুকে থাকার শেষ একটা তোষামোদি চেষ্টা বলা যেতে পারে। আর নেতাও এদের তোষামোদিকে ইন্টিগ্রিটির অন্যতম ইনডিকেটর হিসেবে মনে করেন। পকেট কমিটিতে যা হয়, যা করতে হয় আর কি! আরে নেতারা, হ্যাডম যদি এতই থাকে তাহলে খালেদা জিয়াকে এই ফেসিস্ট সরকারের কবল মুক্ত করে দেখাও, তখন আমরাও জাফরুল্লাহর এমন কথার জবাব দিতে সচেষ্ট হবো। আসলে জাফরুল্লাহ কথাটি বলেছেন একান্ত হতাশা থেকে। এটা বুঝতে হবে। আর তাঁকে হুমকি ধামকি দেয়া মানে ‘সাহসী কিন্তু শক্তিহীন এক বাঘের গায়ে আঁচড় কাটা’- এটা দুদিনের শিশুও পারে।জাফরুল্লাহ যে কথাটি বলেছেন তা হয়তো কোথায় বলেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। অনেকই বলবেন, তিনি তো তারেক রহমানকে একান্ত পরিসরে / পারসোনালই বলতে পারতেন। আমিও তাই মনে করি।

কিন্তু একজন প্রবীণ মুরব্বি, যিনি যার নামই একটা প্রতিষ্ঠান, তিনি যদি একটা ভুলই করে বসেন, তাহলে কি তাঁকে তারেক রহমান তার নেতাদের দিয়ে হুমকি ধামকি বা গায়ে হাত তুলবেন? তারেক রহমানের কাছে কি এমন শিক্ষা নেই যে, জনাব জাফরুল্লাহকে শালিন ও ভদ্রভাবে কিছু বলতে? আশা করবো, তারেক রহমান তার কাপুরুষ নেতাদের দিয়ে হুমকি ধামকি না দিয়ে নিজেই কিছু একটা বলবেন। আর জাফরুল্লাহ চৌধুরী এমন ব্যক্তি নন যে, এরকম ছিঁচকে হুমকি ধামকিতে ভয়ে গুটিয়ে নিবেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কথার জবাব তো তারেক রহমান নিজেই দিতে পারতেন। আর কিছু না বলুন, এটা তো বলতে পারতেন যে, জাফরুল্লাহ চাচা আমার মুরব্বি, বয়সে প্রবীণ, সর্বোপরি জীবন বাজি রাখা মুক্তিযোদ্ধা – আমাকে যা উপদেশ দিয়েছেন আমি পালন করার চেষ্টা করবো। এটুকু বললে তো আর মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না? কিন্তু তা না করে তিনি কাপুরুষ নেতাদের লেলিয়ে দিচ্ছেন যা খড়কুটো ধরে আঁকড়ে থাকা ডুবন্ত দলটাকে সমাধিস্ত করারই নামান্তর।এর আগেও তারেক রহমান শেখ মুজিবকে নিয়ে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যেসকল কথাবার্তা বলেছেন তা নিয়ে তার দলের মধ্যেও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে যতটুকু জানি। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে যদি পাড়ার ছিঁচকে নেতা এমন বলত তাহলে তাও ডিসেন্সির মানদণ্ডে মানাত কি না জানিনা।

শেখ হাসিনা যত খারাপ কথাই বলেন না কেন তার মাকে নিয়ে কিংবা তার বাবাকে নিয়ে, তারেক রহমান তার প্রত্যুত্তরে অনুরূপ করতে পারেন না। তিনি বরং ভদ্রভাবেই এর জবাব দিতে পারতেন। অর্থাৎ তিনি শেখ হাসিনা বা শেখ মুজিবের ক্ষেত্রে বয়সেও সন্তান বা নাতির বয়সের হবেন। আর শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ধারে কাছেও তিনি নেই, ফলে তার সমালোচনা করা বা তাঁকে নিয়ে যেনতেন ভাবে সম্বোধন করে কথা বলা কেউ মেনে নিবেন না। আমি নিজেও শেখ মুজিবের অনেক কাজের সমালোচক তবে তার ভাল কাজের প্রশংসা আমাকে করতেই হবে। আমি তো মনে করি তারেক জিয়ার এসকল কথাবার্তাই একপর্যায়ে শেখ হাসিনাকে আরও ভিন্ডিএক্টিভ করে তুলেছে যার ফল তারেক রহমানের মাকে শেষ বয়সেও এমন লাঞ্চনা সইতে হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনা যদি তার ভুল বুঝে এসব বাদ দেন তবেই মঙ্গল হবে শুধু কোন একটি দলের নয়, পুরো জাতির।কথাবার্তায় ক্যাল্কুলেটিভ বা কৌশলী না হলে নেতার জন্যে একটি জাতিকে অনেক সময় মূল্য দিতে হয় যা আজ বাংলাদেশ দিচ্ছে।

শেখ হাসিনা যদি জিয়া বা খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাজে কথা বলেন তবে সেটা জনগণ বিচার করবে। শেখ হাসিনার মতো করেই যদি তারেক রহমান একই কাজ করতে যান তাহলে দুজনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজবো কোথায়? কখনো কখনো অপমানিত হতে হতেই মানুষ সবার আরাধ্য হয়ে উঠেন। আমাদের নবি করীম সাঃ এর জীবনী থেকে এরকম বহু উদাহরণ দেয়া যাবে। হালের নেলসন মেন্ডেলার কথা বলা যায়। এরা অপমান সওয়ার কৌশল রপ্ত করে একদিন সবার মনের মুকুরে স্থান করে নিয়েছেন। সুতরাং কেউ অপমান করলেই যে ছোট হয়ে গেল তা কিন্তু নয়। বিএনপিকে জনগণ আওয়ামীলীগের মতো দেখতে চায় না। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর, শিক্ষিত, গণতন্ত্রপূর্ণ, নৈতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ একটা উদার দল হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু এতই খারাপ লাগে যখন দেখি পকেট কমিটির প্রাবল্যে দলটি আজ কিছু গোয়ারদের খোঁয়াড়ে পরিণত হয়েছে। আওয়ামীলীগের শেষ সুযোগ ছিল কিন্তু শেখ হাসিনা তা কাজে লাগাতে পারেন নি। কোথাও কোন কিছুর অভাব পরিলক্ষিত হলেই মানুষ তা নিয়ে অভিযোগ বা সমালোচনা করবেই। একে আমলে নিয়ে এর সমাধান কল্পে ব্যবস্থা নেয়াই বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের কাজ। গালি দিয়ে শতধাছিন্ন কাপড়ে তালি মারলেও কিন্তু তালির ওপরে সেলাইটা ঠিকই নজরে পড়বে।

Sharing is caring!