ভোটের বলি রিকশাচালক বাবার সন্তান

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। তবুও যেন উদাসীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন। এই রক্তের খেলা যেন তারা থামাতেই চাচ্ছে না। হুদা কমিশন হাতে রকতের দাগ নিয়েই বিদায় নিচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোটের দিন সোমবার সাতকানিয়ার নলুয়া ও বাজালিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক কিশোরসহ দুইজন নিহত হয়।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে ভোট চলাকালে নলুয়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মরফলা বোর্ড কেন্দ্রের বাইরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তাসিবকে। তার চাচা মিজানুর রহমান নলুয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী। কেন্দ্রের বাইরে থাকা তাসিবকে প্রতিপক্ষ মনে করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছেন স্বজনেরা।

তিন ভাই-বোনের মধ্যে তাসিব বড়। তাসিবের মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। লাশের পাশে তাসিবের রিকশাচালক বাবা জসিম উদ্দিন ও মা সখিনা বেগমের আহাজারি ভারী করে তুলেছে বাড়ির আশপাশের পরিবেশ। কান্না থামাতে পারছেন না পাড়া–প্রতিবেশীরাও।

বুক চাপড়ে জসিম বলেন, ‘‌আমার ছেলেরে মেরে ফেলল। আর কারও বুক যেন খালি না হয়। আমার প্রাণের ছেলেরে মেরে ফেলল। আমি সবার ফাঁসি চাই।’

স্থানীয়রা জানান, বোর্ড অফিস কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকার লিয়াকত আলীর লোকজন অবস্থান নেয়। বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের অনুসারীদের সঙ্গে তখন মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়ানো তাসিবকে কুপিয়ে চলে যায় কয়েকজন। শেষে নৌকার প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাতকানিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল মতিন বলেন, কেন্দ্রের বাইরে গন্ডগোল হয়েছে। এ সময় এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

Sharing is caring!