নতুন সম্পর্কে তুরস্ক ইসরাইল

এতদিন দা কুমড়ো সম্পর্ক থাকলেও নতুন সম্পর্কে জড়াতে যাচ্ছে তুরস্ক ও ইসরাইল। ফলে দুই দেশের আগের সম্পর্কে অনেকটা পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলকে নতুন কৌশলগত জোট খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করেছে। এমন দৃষ্টান্তের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সম্প্রতি তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে একটি পরিবর্তন আসা। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ দুটির মধ্যে গভীর দ্বন্দ্ব চলছে।

কিন্তু সম্প্রতি দুই দেশই পরস্পরের প্রতি সুর নরম করেছে। সম্প্রতি তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইসরাইলের হেইমন সংবাদপত্র জানিয়েছে, তেলআবিবে একজন রাষ্ট্রদূত পাঠানোর কথা গত ২৯ মার্চ ইসরাইলকে জানিয়েছে তুরস্ক। একই সময়ে বিপরীত দিকে থেকেও একই অঙ্গীকার এসেছে।

গেল ডিসেম্বরের পর থেকে দুই তরফ থেকে আরও কিছু ইতিবাচক আভাস এসেছে। কিন্তু কীভাবে দুদেশের মধ্যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেই দিকে একটু নজর দেওয়া দরকার।

২০০৯ সালের দাভোস সম্মেলন। তুরস্কের তখনকার প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের এক মিনিটের মন্তব্য ঘিরে দু-দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। যা এ যাবতকালের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বলে মনে করা হচ্ছে। তুরস্কের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কে তখনই একটা ধাক্কা খায়।

ইসরাইলের সাবেক প্রেসিডেন্ট সিমন পেরেসের সঙ্গে গাজা সংকট নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় তার। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আর কখনো দাভোসে আসবেন না বলে জানান।

এরদোগান তার সেই কথা রেখেছেন। এর বছরখানেক পরেই মাভি মারমারা সংকট দেখা দেয়। ফিলিস্তিনে যেতে চাওয়া তুরস্কের ৯ মানবাধিকারকর্মীকে হত্যা করে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী।

তখন ইসরাইলকে একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ আখ্যায়িত করে নিজের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে আসে তুরস্ক।

ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায় আংকারা। ২০১৬ সালে দু-দেশের মধ্যে ফের একটি চুক্তি সই হয়। বছর শেষে তেলআবিব ও আংকারায় নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয় তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলিস্তিনিরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখালে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ৫২ জন নিহত হন। প্রতিবাদে তেলআবিব থেকে তুরস্ক তার রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

পরবর্তী সময়ে আংকারা থেকে নিজের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নেয় ইসরাইল। রাষ্ট্রদূতের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। তখন থেকে দুই দেশ তাদের সম্পর্ক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মাধ্যমে বজায় রাখছে।

গত ডিসেম্বরে এরদোগান বলেন, আমরা নিজেদের সম্পর্ক একটা ভালো অবস্থায় নিতে আসতে চাই। গোয়েন্দা পর্যায়ে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে।

ফেব্রুয়ারিতে আংকারায় দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে ইরিত লিলিয়ানকে নিয়োগ দিয়েছে ইসরাইল।

ইসরাইলি খবরের অনলাইন ১২৪নিউজ বলছে, তুরস্ক বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইরিত লিলিয়ানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা এরদোগানকে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বার্তা।

ওয়েবসাইটটি জানায়, এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ আংকারার সঙ্গে পুরনো উষ্ণ সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে তেলআবিবের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে বর্তমানে কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই। আর সংকটের এসব উৎসও সাময়িক ও তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনার প্রতিফলন।

এছাড়া পূর্ব ভূমধ্যসাগরের গ্যাস মজুদ নিয়েও দু-দেশের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই আভাসও দিয়েছেন। কাজেই সবার ভাবনার চেয়েও দ্রুত সময়ে তুরস্ক-ইসরাইল সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

লেখক: মালিহ আলতিনক (তুর্কি সাংবাদিক ও লেখক), ডেইলি সাবাহ থেকে অনুবাদ

Sharing is caring!